![]()
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা বিভিন্ন বিমান সংস্থার ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে বিমানগুলো এখন কার্যত স্ক্র্যাপ বা লোহালক্কড়ে পরিণত হওয়ায় কোনো ধরনের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ না করেই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের মূল্যবান প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট অপারেশনাল জায়গা উন্মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।
- ✈️ বাজেয়াপ্ত বিমানের সংখ্যা: মোট ১২টি (ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি, জিএমজি ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের ১টি করে)।
- 📍 দখলকৃত স্থান: শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনের ১,৯২,১০০ বর্গফুট এলাকা।
- 📜 আইনি প্রক্রিয়া: দীর্ঘ আইনি যাচাই-বাছাই ও নোটিশের পর ২০২৪ সালের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানগুলো বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক।
- 🔨 নিলাম পদ্ধতি: বিমানগুলো স্ক্র্যাপ হয়ে যাওয়ায় ভিত্তিমূল্য ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব।
অ্যাপ্রোনে প্রায় ২ লাখ বর্গফুট জায়গার দীর্ঘ দখলমুক্তি
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, দেউলিয়া বা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া বিভিন্ন বিমান সংস্থার ফেলে যাওয়া বিমানগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সর্বোচ্চ ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের অত্যন্ত সংবেদনশীল রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছিল এসব বিমান। এর ফলে নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিং, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা এবং কার্গো পরিচালন কার্যক্রমে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
বাণিজ্যিক উপযোগিতা হারিয়ে স্ক্র্যাপে রূপান্তর ও ভিত্তিমূল্য নির্ধারণে জটিলতা
খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ বছর পড়ে থাকায় বিমানগুলোর ইঞ্জিনসহ অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে এবং ধাতব কাঠামোতে মরিচা ধরেছে। এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য নির্ধারণ করতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, বিক্রির পর সেই অর্থও ঘরে তোলার সম্ভাবনা নেই। এই আর্থিক জটিলতা এড়াতে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় বেবিচক
সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও বিমানগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত নোটিশ দেয় বেবিচক। এরপর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আইনি মতামত, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকতা সেরে গত ২০২৪ সালের ২৬ মে বিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। এখন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই আন্তর্জাতিক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের কাছে এগুলো নিলামে তোলা হবে।
পরিত্যক্ত বিমানের বিবরণ ও নিলাম প্রক্রিয়া একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| মোট পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ | ১২টি বিমান (ইউনাইটেড ৮, রিজেন্ট ২, জিএমজি ১, অ্যাঞ্জেল ১) |
| দখলকৃত অ্যাপ্রোন এলাকা | ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট (রপ্তানি কার্গো জোন) |
| আনুষ্ঠানিক বাজেয়াপ্ত করার তারিখ | ২৬ মে, ২০২৪ (দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে) |
| নিলাম ও বিক্রির প্রক্রিয়া | ভিত্তিমূল্য ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র (Open Tender) |
