![]()
শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে টানা তিন দিনের সংঘর্ষের মধ্যেও পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরবস্থা, উচ্চ টিউশন ফি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সহায়তার দাবিতে তার পদত্যাগ চাইছেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী তিরানায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির অন্যান্য শহরেও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে লিখিত বক্তব্যে রামা বলেন, সরকার পরিবর্তনের পথ গণতান্ত্রিক নির্বাচন, বিপ্লব নয়। গত বছর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বৈধ উদ্বেগের কথা শোনা, সেগুলোর সমাধান করা এবং আলবেনিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই তার দায়িত্ব।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে আলোচনা সম্পন্ন করতে জনগণ তাকে শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে বলেও দাবি করেন রামা। তার ভাষ্য, এ অবস্থায় পদত্যাগ করা হবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা, সম্পদ ধ্বংস এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সমালোচনা করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার ও বুধবার তিরানায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি সরকারি ভবনে ভাঙচুর চালান এবং অন্তত একটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের সংঘর্ষে ৫১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলার সন্দেহে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, তিরানার একটি সরকারি হাসপাতাল জানিয়েছে, সহিংসতায় আহত সাতজন বিক্ষোভকারী চিকিৎসা নিয়েছেন।
গত বছর টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রামার জন্য এই বিক্ষোভকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের আগে কয়েক মাস ধরে আলবেনিয়ায় তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। দেশটির দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে ওই আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রকল্পটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থন রয়েছে। তবে এটি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
রামা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তার দাবি, আলবেনিয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জোরালোভাবে দুর্নীতি মোকাবিলা করছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু শক্তি আলবেনিয়ার ইইউ সদস্যপদ অর্জনের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চাইতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সহিংসতার কারণে দেশটির ইউরোপীয় ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হতে দেবেন না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিরানায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল বিক্ষোভে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকতে বলেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আলবেনিয়া ও মন্টেনেগ্রো ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আলবেনিয়া।
