![]()
মাগুরায় কোটি টাকার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নোয়াখালীর চাটখিলে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সাধারণ কয়েকটি লাইট ও ফ্যান চালিত পরিবারটিতে মাসে যেখানে গড়ে খরচ হতো ১ হাজার ৩০০ টাকার মতো, সেখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই ভৌতিক বিলে চরম ক্ষুব্ধ ও হতবাক হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
- 📍 ঘটনাস্থল: বদলকোট ইউনিয়ন, হরিকৃষ্ণপুর গ্রাম, চাটখিল, নোয়াখালী।
- 💡 আবাসিক ব্যবহারের ধরন: ৮টি এনার্জি বাল্ব, ২টি ফ্যান, ১টি ফ্রিজ ও ১টি আইপিএস (গড় বিল ১৩০০ টাকা)।
- 📄 সেপ্টেম্বরের ভৌতিক বিল: ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা (৬ হাজার ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়েছে)।
- 🏢 ডিজিএম-এর স্বীকারোক্তি: চাটখিল কার্যালয়ের ডিজিএম জুনায়েদুর রহমান ভুল স্বীকার করে বিল সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছেন।
১৮৭ ইউনিটের স্থলে একলাফে ৬ হাজার ইউনিটের আজব হিসাব
ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে। মিটারটি প্রয়াত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে এটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি। গ্রাহকের সেপ্টেম্বর মাসের বিলের কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম জানান, বিগত ৫ মাস ধরে তাঁদের পরিবারে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। অথচ সেপ্টেম্বরের বিলে অদ্ভুতভাবে ৬ হাজার ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
“অফিসের ভুলের খেসারত সাধারণ মানুষ দেবে কেন?”—ভুক্তভোগীর ক্ষোভ
ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। সাধারণ লাইট-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে লাখ টাকার বেশি বিল আসে? রিডারদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের ভৌতিক বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে।” বিল বিতরণকারী কর্মী চাটখিল অফিসে গিয়ে বিল ঠিক করতে পরামর্শ দিলে তিনি আরও বলেন, “কর্মকর্তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল করবেন, আর সাধারণ মানুষ তা ঠিক করতে তাঁদের দরজায় দরজায় ঘুরবে—এটা হতে পারে না। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভুল স্বীকার ও সংশোধনের আশ্বাস
বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রাহকের মূল বিলের কপি পর্যালোচনা করেন। এরপর তিনি ভুতুড়ে বিলের সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুলবশত হয়েছে। অতি দ্রুতই ওই গ্রাহকের বাড়িতে টিম পাঠিয়ে মিটার পরীক্ষা করে সংশোধিত বিল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
চাটখিলের ভুতুড়ে বিল সংক্ষেপ
| বিষয় / বিবরণ | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| গ্রাহকের নাম ও ঠিকানা | প্রয়াত আবু তাহের (ব্যবহারকারী: শহীদুল ইসলাম রনি), বদলকোট, চাটখিল |
| স্বাভাবিক মাসিক ব্যবহার ও বিল | গড়ে ১৮৭ ইউনিট (বিল আনুমানিক ১,৩০০ টাকা) |
| সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভৌতিক বিল | ৬,০০০ ইউনিট (১,১০,৪৯৬ টাকা) |
| অফিসিয়াল পদক্ষেপ | ডিজিএম কর্তৃক ভুল স্বীকার; সংশোধিত বিল প্রদানের প্রতিশ্রুতি |
