![]()
বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে এবং আগামী দিনেও ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতি বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর ধর্মসভার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম রংপুর সফর। সফরকালে তিনি রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন।
- 🛕 মহানবমীর শুভেচ্ছা ও আর্থিক অনুদান: রংপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর।
- 🏗️ রংপুর সিটি ও জেলার উন্নয়ন: রংপুর মহানগরের জন্য ১,৮০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্যাকেজ ও গ্রামীণ সেতু-কালভার্ট-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ঘোষণা।
- 🤝 সকলের উন্নয়ন ও সমবণ্টন: দল-মত নির্বিশেষে যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সকলের জন্য সুষম রাষ্ট্রীয় সম্পদ বন্টনের অঙ্গীকার।
- 🌾 সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ: ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক ভাতার অগ্রগতি উল্লেখ।
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের জাতীয় ঐক্য
ঐতিহাসিক ঐক্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার সময় কোনো ধর্মের মানুষকে আলাদা করে দেখা হয়নি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্ম ও মতের মানুষের অসামান্য ভূমিকা ছিল।” তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি মহল সরকারের গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করে জাতীয় সংসদেই যেকোনো দাবি বা কথা তুলে ধরা উচিত।
রংপুরের উন্নয়ন, সমবণ্টন ও কৃষি-সামাজিক কল্যাণ নীতি
রংপুরের উদ্দেশে আসার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকার পথসভাতেও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারের নেওয়া গণমুখী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালুসহ ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মের পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামোর সামগ্রিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মন্দির প্রাঙ্গণে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও হোস্টেল নির্মাণের নির্দেশ
দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুর ধর্মসভার রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে শিশুদের নৃত্য ও পূজারীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। মন্দিরের সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। এ সময় মন্দিরের পেছনে হোস্টেল জাতীয় অবকাঠামো তৈরিতে সরকারি সহায়তার বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর ও রাধাগোবিন্দ মন্দির অনুষ্ঠানের বিবরণী
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| অনুষ্ঠানের স্থান ও উপলক্ষ | রাধাগোবিন্দ মন্দির, ধর্মসভা, রংপুর (শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী) |
| সফর ও পথসভা | প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রংপুর সফর; তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে পথসভা সম্পন্ন |
| বিশেষ বরাদ্দ ও অনুদান | রংপুর সিটিতে ১,৮০০ কোটি টাকা; মন্দির ফান্ডে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান |
| উপস্থিত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ | রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিতাই রায় চৌধুরী ও বিজন কান্তি সরকার |
