![]()
দিনে সূর্যের আলো সংরক্ষণ করে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ, আর সেই নবায়নযোগ্য শক্তিতে রাতে দ্যুতি ছড়াচ্ছে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নগরসেবায় সৌরবিদ্যুতের এমন সফল ব্যবহারে বড় সাফল্য পেয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উত্তরাতে ২৬০টি সৌরবাতি ব্যবহারের মাধ্যমে গত আট বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য অন্তত ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। উত্তরা ও ভাষানটেকের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর পুরো ঢাকা উত্তর এলাকায় সৌরবাতির পরিধি বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
- 💡 উত্তরার স্থাপনাসমূহ: শাহজালাল, গরীবে নেওয়াজ ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউয়ের ১৩০টি খুঁটিতে ২৬০টি সৌরবাতি (প্রতিটি ৯০ ওয়াট)।
- 💰 বিদ্যুৎ ও অর্থ সাশ্রয়: ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে ৮ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ও আনুমানিক ৯৭.৪১ লাখ টাকা সাশ্রয়।
- 🌱 পরিবেশগত প্রভাব: সৌরবাতি ব্যবহারের ফলে একই সময়ে প্রায় ৫২৭ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
- 🏘️ ভাষানটেক সম্প্রসারণ: ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল ভাষানটেক বস্তি এলাকায় ৪৫০টি সোলার এলইডি বাতি উদ্বোধন, সুবিধা পাচ্ছেন ডেড় লাখ বাসিন্দা।
উত্তরা ও ভাষানটেকে টেকসই আলোর রোশনাই
ডিএনসিসির নথির তথ্যানুযায়ী, উত্তরার ৩টি প্রধান এভিনিউতে মোট ৬৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বাসানো হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা আলো জ্বালানোর ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত হিসাব জানাচ্ছে, প্রচলিত জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি এটি পুরো এলাকাকে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ আলোর আওতায় এনেছে। উত্তরায় অভাবনীয় সাফল্য মেলার পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ভাষানটেক এলাকার সরু গলি ও রাস্তায় নিরাপত্তার স্বার্থে ৪৫০টি সৌরভিত্তিক এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়, যা ওই এলাকার দেড় লাখ অধিবাসীর রাতের যাতায়াত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে।
সঠিক রক্ষণাবেক্ষণই সফলতার চাবিকাঠি: ডিএনসিসি কর্মকর্তা
প্রকল্পের প্রসার নিয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যেসব সড়কে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়, সেখানে সৌরভিত্তিক বাতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা না থাকায় অতীতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুরূপ উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়লেও, সঠিক তদারকি ও ধুলাবালি পরিষ্কার রাখার কারণে উত্তর সিটিতে এটি সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারও পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সোলার শক্তির প্রসার দেখতে চায়, যা নগর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমাবে।
পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটি গড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা
সারজমিনে উত্তরার গরীবে নেওয়াজ এভিনিউ ও আশপাশের সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, সৌরবাতির আলোর তীব্রতা সাধারণ এলইডি বাতির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের জুনের হিসেবে প্রতি ইউনিট গ্রিড বিদ্যুতের ইউনিট দর ১১ টাকা ৪৬ পয়সা ধরে হিসাব করলে দীর্ঘমেয়াদে পুরো রাজধানীতে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন বিপুল রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও শক্তি সঞ্চয় করবে।
ডিএনসিসির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সারসংক্ষেপ
| প্রকল্প এলাকা / বিষয় | বিবরণ ও অর্জিত সাফল্য |
|---|---|
| প্রকল্পিত উত্তরা সড়কসমূহ | শাহজালাল অ্যাভিনিউ, গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউ |
| বাতি ও ক্ষমতা | ১৩০টি খুঁটিতে ২৬০টি সৌরবাতি (মোট স্থাপিত সোলার প্যানেল ক্ষমতা ৬৫ কিওয়াট) |
| সঞ্চয়কৃত গ্রিড বিদ্যুৎ ও অর্থ | ৮.৫ লাখ ইউনিট (আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৯৭,৪১,০০০ টাকা) |
| ভাষানটেক সম্প্রসারণ সুবিধা | ৪৫০টি নতুন সৌরবাতি, সুবিধাভোগী প্রায় ১,৫০,০০০ নাগরিক |
