![]()
কর্মীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন আর্থিক জটিলতায় জড়িত থাকার দায়ে পাঁচ বা ততোধিক শ্রমিক রয়েছে—এমন ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে কুয়েতের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (প্যাম)। একই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা ৩৯ হাজার ৫৫৯টি প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা মেনে সময়মতো বেতন পরিশোধ করায় সেগুলোকে নিয়মনিষ্ঠ বা কমপ্লায়েন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় বেতন থেকে অর্থ কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের সীমা এবং সুনির্দিষ্ট ১৩টি বৈধ কারণ নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
- 🏢 প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ: আর্থিক জটিলতা ও বেতন বকেয়ার দায়ে ৫ বা ততোধিক শ্রমিক রয়েছে এমন ৮,৮৪৯টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত।
- ✅ কমপ্লায়েন্ট কোম্পানি: সরকারি নিয়ম মেনে সময়মতো বেতন পরিশোধ করায় ৩৯,৫৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি।
- ✂️ বেতন কর্তনের সীমা: কোনো অবস্থাতেই এক মাসে কর্মীর মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ কাটা যাবে না।
- 📋 কর্তনের ১৩ বৈধ কারণ: অবৈতনিক ছুটি, সিক লিভ, সাসপেনশন ও কর্মক্ষেত্রত্যাগের মতো সুনির্দিষ্ট ১৩টি কারণ নির্ধারণ।
প্যামের ওয়েজ-পেমেন্ট মনিটরিং সিস্টেমের হিসাব
কর্তৃপক্ষের বরাਤੇ জানা যায়, প্যামের ডিজিটাল মজুরি পর্যবেক্ষণ সিস্টেমে বর্তমানে সর্বমোট নিবন্ধিত ফাইলের সংখ্যা ১ লাখ ২৫২টি। এর মধ্যে পাঁচজনের কম কর্মী রয়েছে এমন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা নিয়োগকর্তাদের ফাইলের সংখ্যা ৫১ হাজার ৮৪৪টি। অন্যদিকে পাঁচ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের মোট ফাইল সংখ্যা ৪৮ হাজার ৪০৮টি; যার মধ্য থেকেই ৮ হাজার ৮৪৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইলে বেতন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বেতন থেকে অর্থ কাটার সর্বোচ্চ ১৩টি বৈধ কারণ
কর্মীদের বেতন থেকে অর্থ কাটার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে সর্বোচ্চ ১৩টি সুনির্দিষ্ট ও বৈধ কারণ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্যাম। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশে বা বিদেশে কাটানো অবৈতনিক ছুটি (আনপেইড লিভ), সন্তান প্রতিপালনের ছুটি (চাইল্ডকেয়ার লিভ), অসুস্থতাজনিত ছুটি (সিক লিভ), আংশিক বেতনভুক্ত ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেনশন, কর্মক্ষেত্র থেকে অনুমতি ছাড়া প্রস্থান, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং নোটিশ ছাড়া অনুপস্থিতিসহ কর্মীদের পেশাগত মর্যাদাসংক্রান্ত অন্যান্য বৈধ কারণ। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মীর বেতন থেকে অর্থ কর্তন করতে হলে সেই পদক্ষেপের আইনগত যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও বৈধ নথিপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় ২৫ শতাংশের কড়া সীমা
প্রবাসী ও স্থানীয় কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে প্যাম স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই এক মাসে কোনো কর্মীর মূল বেতনের ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ কাটা যাবে না। এই সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্তনের ক্ষেত্রেও কর্তনের বৈধতা নিশ্চিতকারী সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য নথিপত্র সিস্টেম বা কর্তৃপক্ষের কাছে সংযুক্ত করা আবশ্যক করা হয়েছে।
কুয়েত প্যাম (PAM) ওয়েজ মনিটরিং ও নীতিমালা সংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম | পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM), কুয়েত (ওয়েজ-পেমেন্ট মনিটরিং সিস্টেম) |
| চিহ্নিত অনিয়মের ফাইল | ৮,৮৪৯টি প্রতিষ্ঠান (৫ বা ততোধিক কর্মী বিশিষ্ট মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান) |
| নিয়মনিষ্ঠ (কমপ্লায়েন্ট) ফাইল | ৩৯,৫৫৯টি প্রতিষ্ঠান (সময়মতো বেতন পরিশোধকারী) |
| সর্বোচ্চ বেতন কর্তনের সীমা | মূল বেতনের সর্বোচ্চ ২৫% (সুনির্দিষ্ট ১৩টি বৈধ কারণ সাপেক্ষে) |
