![]()
তীব্র গ্যাস সংকটে ভালুকায় ২০ কারখানায় ছুটি, উৎপাদনে ধস
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বাধ্য হয়ে অন্তত ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিলেও দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যেই ধাপে ধাপে তাদের ছুটি দিয়ে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-৫ এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন।
- 📍 স্থান: ভালুকা শিল্পাঞ্চল, ময়মনসিংহ।
- 📉 ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা: এ অঞ্চলে গ্যাসচালিত ৯৯টি কারখানার প্রায় প্রতিটিই সংকটে।
- 🛑 তাৎক্ষণিক ছুটি: কাজ চালানোর উপায় না থাকায় ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি।
- ⚠️ গ্যাসের চাপ (PSI): ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের লাইনে গ্যাস মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই।
ধুঁকছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল, উৎপাদন অর্ধেকের নিচে
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সকাল থেকেই লাইনে গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। ভালুকা পৌর এলাকা ও তিতাস কার্যালয়ের আশপাশের কারখানাগুলোতে কিছুটা গ্যাসের চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে গ্যাস একেবারেই ছিল না। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও বিদ্যুৎ দিয়ে আংশিক উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিকভাবে প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলো।
একনজরে: ক্ষতিগ্রস্ত উল্লেখযোগ্য কারখানার তালিকা
| কারখানার নাম | ক্ষতির বিবরণ / বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| টয়ো স্পিনিং মিলস (গৌরীপুর) | ৫০টির মধ্যে ৪৩টি মেশিনই বন্ধ (বাকি ৭টি পিডিবি বিদ্যুতে চলছে) |
| সীমা স্পিনিং মিলস (ভালুকা) | ৩০টি মেশিন পুরোপুরি বন্ধ, উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে |
| এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল | ৪০ শতাংশ মেশিন অচল |
| এক্সিলেন্ট সিরামিকস | ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে |
| অন্যান্য (বাশার স্পিনিং, নরটেক্স, ডেল্টা) | উৎপাদন ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে |
কী বলছে তিতাস গ্যাস ও শিল্প পুলিশ?
শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে ছুটি দেওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল এবং বিএসপি স্পিনিং মিলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
গ্যাসের এই বেহাল দশা নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, “ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি লাইনে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই।” গ্লোরি টেক্সটাইলের ইউটিলিটি ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, এই সমস্যা নতুন নয়; গত দেড় থেকে দুই মাস ধরেই ১৫ পিএসআইয়ের জায়গায় তারা ১১ থেকে ১২ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, বিকেল ৫টার পর থেকে লাইনে গ্যাসের চাপ বাড়তে পারে।
