![]()
অর্থনীতি ও বাণিজ্য
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯.৪ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি বিল: এলএনজি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে সরবরাহ ব্যাহত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কয়লার দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশসহ ৫ দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, TouchBangladesh
ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এখন হুমকির মুখে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের এলএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যা এই অঞ্চলে এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কাতারের এলএনজি চালান প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে এশিয়ার ক্রেতারা চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
দ্বিগুণ হলো জ্বালানি ব্যয়
ব্লুমবার্গ নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এশিয়ার প্রধান পাঁচ উদীয়মান ক্রেতা দেশ—ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম খোলাবাজার থেকে এলএনজি কিনতে সম্মিলিতভাবে ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার) ব্যয় করেছে। অথচ ২০২৫ সালের ঠিক একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই পরিমাণ জ্বালানির দাম ছিল মাত্র ৩.১ বিলিয়ন ডলার। ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে এলএনজির সুনাম এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিকল্প খুঁজছে এশিয়া
স্বল্পমেয়াদে ব্ল্যাকআউট বা লোডশেডিং এড়াতে এই দেশগুলোর কাছে বর্তমান চড়া দামে এলএনজি কেনা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনেক দেশই এখন এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কয়লা, পারমাণবিক শক্তি কিংবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জ্বালানি এখন অন্যতম বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জার্মান এলএনজি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সেফে (SEFE) মার্কেটিং অ্যান্ড ট্রেডিং-এর এশিয়া বিষয়ক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্যাবিয়ান কোর সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে এক সম্মেলনে বলেন, “দাম যদি এমন পর্যায়ে থাকে, তবে বিকল্প জ্বালানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এলএনজির জন্য সত্যিই কঠিন হবে।”
বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুতে জোর, কয়লায় ফিরতে পারে ভিয়েতনাম
কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশ খোলাবাজার থেকে জ্বালানি কিনতে ইতোমধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এখন গ্রাহকদের সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্লুমবার্গএনইএফ-এর বিশ্লেষক অক্ষয় মোদির মতে, এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইন পুনরায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তানও তাদের সৌর ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে মনোযোগ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এশিয়ার দেশগুলোকে আবারও বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এলএনজির ওপর একক নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য আনতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পাপুয়া নিউগিনির মতো নতুন সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।
