![]()
ভবিষ্যতের চাল তৈরি হচ্ছে জাপানের গবেষণাগারে: বাংলাদেশের জন্য হতে পারে অনন্য দৃষ্টান্ত
জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি কিংবা বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা আজ নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। উন্নত দেশ জাপানও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে নিজেদের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ধান উৎপাদনকারী এই দ্বীপ দেশটি এবার ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নয়, বরং জোর দিচ্ছে গবেষণাগারে। ইয়ামাগাতার মতো শীর্ষ উৎপাদন অঞ্চলে জিনোমভিত্তিক প্রজনন, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল নতুন জাত এবং স্মার্ট কৃষির সমন্বয়ে জাপান যে ‘মিদোরি কৌশল’ হাতে নিয়েছে, তা বাংলাদেশের মতো ধাননির্ভর দেশগুলোর জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
- 🌱 মিদোরি কৌশল: ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি খাতে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য।
- 🌡️ তাপমাত্রা সহনশীল ধান: বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় ‘ইউকিমানতেন’ নামের নতুন জাত আসছে ২০২৭ সালে।
- 💧 এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি: ধানখেত পর্যায়ক্রমে শুকিয়ে মিথেন গ্যাস নির্গমন ৩০% পর্যন্ত হ্রাস।
- 🧬 জিনোম প্রজনন: ডিএনএ (DNA) মার্কার ব্যবহার করে ল্যাবেই নির্ধারণ হচ্ছে ধানের স্বাদ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা।
টেকসই কৃষির রূপরেখা: মিদোরি কৌশল ও জে-ক্রেডিট
ভবিষ্যতের টেকসই খাদ্যব্যবস্থার জন্য জাপান সরকার ২০২১ সালে ‘মিদোরি কৌশল’ প্রণয়ন করে এবং ২০২২ সালে তা আইনে পরিণত করে। এর মূল লক্ষ্য হলো—রাসায়নিক কীটনাশক ও সারের ব্যবহার কমানো এবং মোট জমির ২৫ শতাংশে জৈব চাষাবাদ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কৃষি থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের স্বীকৃতি হিসেবে ‘জে-ক্রেডিট’ এবং ‘পরিবেশগত লেবেলিং’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কৃষকদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে আকৃষ্ট করতে সরকার করছাড় ও আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করছে।
একনজরে: ইয়ামাগাতা ধান গবেষণা কেন্দ্রের সাফল্য
| গবেষণার খাত | বিস্তারিত তথ্য ও অর্জন |
|---|---|
| নতুন জাত উদ্ভাবন | ১৯২০ সাল থেকে ১৩০টির বেশি জাত; এর মধ্যে ২২টি বাণিজ্যিকভাবে সফল (যেমন: সুইয়াহিমে)। |
| উষ্ণতা প্রতিরোধী জাত | ‘ইউকিমানতেন’ জাতের পরীক্ষামূলক চাষ চলছে, যা ২০২৭ সালে বাজারে আসবে। |
| মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণ | এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতির মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২৮ গুণ ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস ৩০% কমানো। |
| বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা | জাপান এডব্লিউডি পদ্ধতিটি ফিলিপাইনের মতো বাংলাদেশেও প্রয়োগে প্রবল আগ্রহী। |
গবেষণাগারেই নির্ধারিত হচ্ছে ধানের স্বাদ ও ভবিষ্যৎ
কেবল মাঠে নয়, জাপানের বিজ্ঞানীরা এখন ডিএনএ (DNA) মার্কার ব্যবহার করে জিনোমভিত্তিক প্রজনন ঘটাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ধানের স্বাদ, ফলন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গবেষণাগারেই নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে জাপানেও ধানের গুণমান কমছে, তাই ‘ইউকিমানতেন’ এর মতো উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাত উদ্ভাবন তাদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইয়ামাগাতা ধান গবেষণা কেন্দ্রের এই অভিজ্ঞতা শুধু জাপানের জন্য নয়, বরং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া ও কৃষিশ্রমিক সংকটের মুখে থাকা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক অনন্য মডেল হতে পারে।
