Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন না করার পক্ষে বিহার: ঢাকার জন্য এর অর্থ কী?

প্রতিবেদক
Louis Daru
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতি

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন না করার পক্ষে ভারতের বিহার: ঢাকার জন্য এর অর্থ কী?

(বিশ্লেষণ) | TouchBangladesh
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী ‘গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি’ আগামী ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তি নবায়নের এই সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দিল্লি ও ঢাকার পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের বিহার রাজ্য। বিহারের জলসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, এই চুক্তি নবায়ন না করে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে দেওয়া উচিত। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একটি চিঠির মাধ্যমে বিহারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিহারের পানির চাহিদা পুরোপুরি বিবেচনা করা হবে।

সংকটের মূল কারণ ও বিহারের দাবি

  • 🌊 ফারাক্কা প্রবাহ: শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় ১,৫০০ কিউসেক প্রবাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে বিহারে পানির তীব্র ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
  • 🏜️ পলি ও বন্যা: ফারাক্কা বাঁধের পলি জমে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে বর্ষায় ভাগলপুর ও মুঙ্গেরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
  • 🏛️ রাজনীতি: বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ চাপ দিল্লির কূটনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
  • 🇧🇩 বাংলাদেশের অবস্থান: স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী সমতাভিত্তিক চুক্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি রাজবাড়ীতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।

বিহারের অভিযোগ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ

বিহারের মূল আপত্তি হলো—গঙ্গার তিন-চতুর্থাংশ পানি বিহারের নিজস্ব নদীগুলো থেকে আসলেও, বকসার দিয়ে রাজ্যে মাত্র ৪০০ কিউসেক পানি প্রবেশ করে, অথচ ফারাক্কায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে দেড় হাজার কিউসেক পানি পাঠাতে হয়। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও খাবার পানির সংকট তৈরি হয়, আর বর্ষায় পলি জমে বন্যায় ডুবে যায় রাজ্যটি।

একনজরে: গঙ্গা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় ভূ-রাজনৈতিক চিত্র

পক্ষ / রাষ্ট্র মূল দাবি ও অবস্থান
বাংলাদেশ (ঢাকা) চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী করা এবং ন্যায্য পানিপ্রবাহের নিশ্চয়তা। বিকল্প হিসেবে রাজবাড়ীতে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প অনুমোদন।
বিহার সরকার (উজান) চুক্তিটি নবায়ন না করে বাতিল করা; ২০৫০ সালের জনসংখ্যা ও শিল্প খাতের পানির চাহিদা বিবেচনা করা।
পশ্চিমবঙ্গ (শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন) কলকাতার বন্দরের নাব্যতা রক্ষা ও নদী ভাঙন রোধে ফারাক্কা দিয়ে হুগলি নদীতে প্রয়োজনীয় পানি রাখা।
দিল্লি (কেন্দ্রীয় সরকার) বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতামত বিবেচনা করে ১২ ডিসেম্বরের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে পর্যালোচনা টিম গঠন করেছেন এবং চুক্তিটি স্থায়ী করার দাবি তুলেছেন।

উজান থেকে পানির নিশ্চয়তা না পেয়ে বাংলাদেশ রাজবাড়ীতে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, যা শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২৮.৮ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ নিশ্চিত করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পানির মূল চাবিকাঠি এখনও ভারতের হাতে থাকায় নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিকল্প নেই। ১২ ডিসেম্বরের চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।