Touch Bangladesh
ঢাকাসোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

বাংলাদেশে এগ ফ্রিজিং: কেন করা হয়, সফলতার হার ও খরচ কত?

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন এমন একটি চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে একজন নারীর ডিম্বাশয় থেকে অনিশিক্ত ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় হিমায়িত অবস্থায় দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সন্তান নিতে চাইলে এই সংরক্ষিত ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গত কয়েক বছর ধরে এই সেবার প্রচলন শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে নারীরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করছেন, ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে সন্তান ধারণের সফলতার হার কেমন এবং এতে খরচই বা কেমন হতে পারে—তা নিয়ে রয়েছে নানা কৌতূহল।

কেন নারীরা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন?

মূলত ভবিষ্যতে মাতৃত্বের সুযোগ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই অনেক নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণের পথ বেছে নেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং তার গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। ফলে অধিক বয়সে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

এ কারণে অনেক নারী তুলনামূলক কম বয়সে—যখন ডিম্বাণুর গুণগত মান সেরা থাকে—তা সংরক্ষণ করে রাখেন, যাতে ক্যারিয়ার, শিক্ষা বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে দেরিতে হলেও সন্তান গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

সামাজিক বা ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও কিছু জরুরি চিকিৎসাজনিত কারণেও এগ ফ্রিজিং করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোনো নারী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মতো প্রজননক্ষমতায় প্রভাব ফেলার মতো চিকিৎসা শুরুর আগেই ডিম্বাণু সংগ্রহ করে রাখা হয়। কারণ এসব ক্যানসার থেরাপি ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে।

সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কতটা?

হিমায়িত ডিম্বাণু ব্যবহার করে পরবর্তীতে গর্ভধারণের সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর:

  • বয়স: যে বয়সে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই সময়ে নারীর বয়স কত ছিল তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩৫ বছরের কম বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা হলে পরবর্তীতে সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

  • ডিম্বাণুর সংখ্যা ও মান: সংগৃহীত ডিম্বাণুর সংখ্যা বেশি এবং উন্নতমানের হলে তা সফলভাবে নিষিক্ত হওয়ার হার বাড়ে।

  • পদ্ধতির প্রয়োগ: পরবর্তীতে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) বা টেস্টটিউব পদ্ধতির মাধ্যমে সংগৃহীত ডিম্বাণুকে শুক্রাণুর সাথে নিষিক্ত করে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, এগ ফ্রিজিং গর্ভধারণের শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, তবে বয়সের কারণে তৈরি হওয়া প্রজনন সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে খরচ কেমন?

বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কয়েকটি আধুনিক ইনফার্টিলিটি বা প্রজনন চিকিৎসা কেন্দ্রে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

  • প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও সংগ্রহ: ডিম্বাণু উদ্দীপনা (Stimulation), হরমোন ইনজেকশন, পর্যবেক্ষণ এবং ডিম্বাণু সংগ্রহের (Egg Retrieval) প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে।

  • বার্ষিক সংরক্ষণ ফি: সংগ্রহ করা ডিম্বাণু নাইট্রোজেন ট্যাংকে সংরক্ষণ করার জন্য প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ দিতে হয়, যা সাধারণত বছরে ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

  • পরবর্তী গর্ভধারণের খরচ: সংরক্ষিত ডিম্বাণু দিয়ে পরবর্তীতে যখন ভ্রূণ তৈরি করে জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হবে, তখন আইভিএফ প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা চিকিৎসা খরচ যুক্ত হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যারিয়ার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এগ ফ্রিজিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, যদিও সামগ্রিকভাবে এটি এখনো বেশ ব্যয়বহুল একটি পদ্ধতি।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।