![]()
আপনার ব্রেইন কি আপনার নিয়ন্ত্রণে? ড. সাহার ইউসেফের সহজ কিছু উপায়ে বাড়ান ফোকাস ও প্রোডাক্টিভিটি
আজকের ডিজিটাল যুগে মাল্টিটাস্কিং করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছি আমাদের মনোযোগ ও ফোকাস। তবে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের (UC Berkeley) কগনিটিভ নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. সাহার ইউসেফ (Dr. Sahar Yousef) ব্রেইনকে নতুন করে গড়ে তোলার দারুণ কিছু কৌশল শেয়ার করেছেন। তার এই নির্দেশিকা মেনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রেইনকে আরও কার্যকর ও ফোকাসড রাখা সম্ভব।
- 🔄 মাল্টিটাস্কিং পরিহার: ব্রেইন আসলে একসাথে একাধিক কাজ করতে পারে না; কাজ বদলাতে প্রচুর শক্তি খরচ হয়।
- 📱 ডিজিটাল হাইজিন: সামনে ফোন রাখা (এমনকি বন্ধ থাকলেও) মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়।
- 💡 একঘেয়েমি বা বোরডম: নতুন ও সৃজনশীল আইডিয়ার জন্য ব্রেইনকে মাঝে মাঝে ‘বোর’ হতে দিতে হয়।
- 🧘 কগনিটিভ পজ: আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ছোট ছোট বিরতি বা পজ নেওয়া অভ্যাস করুন।
মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষতিকর প্রভাব ও ডিজিটাল হাইজিন
ড. সাহার ইউসেফ জানান, আমরা সাধারণত যাকে মাল্টিটাস্কিং বলি, তা মূলত কাজের দ্রুত সুইচিং মাত্র। এতে ব্রেইনের বিশাল শক্তি অপচয় হয়। এছাড়া ফোকাস বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল হাইজিন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনার চোখের সামনে ফোন রাখা থাকলে (তা সায়েন্টিফিকালি সাইলেন্ট বা বন্ধ থাকলেও) তা মানুষের ফোকাস ও বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শর্টস বা রিলস দেখার অভ্যাস আমাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে; এর পরিবর্তে বড় দৈর্ঘ্যের শিক্ষামূলক কন্টেন্ট দেখার অভ্যাস করা উচিত।
একনজরে: ড. সাহার ইউসেফের ব্রেইন হ্যাকস
| বিষয় | পরামর্শ ও কার্যকারিতা |
|---|---|
| মাল্টিটাস্কিং | একক সময়ে একটি কাজে মনোযোগ দিন, শক্তি অপচয় রোধ করুন। |
| ফোন ব্যবহার (ডিজিটাল হাইজিন) | কাজের সময় দৃষ্টির আড়ালে বা দূরে রাখুন। |
| সৃজনশীলতা ও বোরডম | ব্রেইনকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম বা একঘেয়েমির সুযোগ দিন। |
| বার্নআউট প্রতিরোধ (3M Framework) | Micro, Meso ও Macro breaks মেনে চলুন। |
অভ্যাস পরিবর্তন ও ‘3M Framework’
খারাপ অভ্যাস জোর করে ছাড়ার চেয়ে নতুন ও ভালো অভ্যাস তৈরি করা তুলনামূলক সহজ। কাজের মাঝে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ছোট ছোট ‘কগনিটিভ পজ’ বা বিরতি নেওয়া রপ্ত করতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ বা বার্নআউট (Burnout) থেকে রক্ষা পেতে ‘3M Framework’ (Micro, Meso, Macro breaks) মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন এই নিউরোসায়েন্টিস্ট। আপনার কর্মজীবনকে আরও প্রোডাক্টিভ ও চাপমুক্ত করতে আজ থেকেই এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো জীবনে প্রয়োগ করুন।
