![]()
নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন:
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক চরম সন্ধিক্ষণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর) এই শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের শক্তিশালী ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশের নেতাদের স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অংশীদার (Partner) ও আমন্ত্রিত দেশের প্রতিনিধিরাও এই মেগা ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রসারিত ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মাঝে একটি সাধারণ ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন আয়োজক হিসেবে ভারতের মূল চ্যালেঞ্জ।
ব্রিকসের দুই দশক ও ভারতের নেতৃত্ব
চলতি বছর ব্রিকস জোট তার প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ করছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো (এর আগে ২০১২, ২০১৬ ও ২০২১ সালে) ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হলো— ‘স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। মূল সম্মেলন শুরুর আগে ভারতের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে যখন বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, তখন ব্রিকস নতুন কোনো পথ দেখাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ভুলে একটি শক্তিশালী যৌথ বিবৃতি (Joint Statement) তৈরি করা ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার ও ইরানের অবস্থান
সম্মেলনে যোগ দিতে এরই মধ্যে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। ভারতের নেতৃত্বের প্রশংসা করে আরাগচি বলেন, “ভারত একটি উদীয়মান পরাশক্তি এবং চমৎকারভাবে ব্রিকসের নেতৃত্ব দিচ্ছে।”
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, “জোটের ভেতরে কিছু ভিন্নমত থাকলেও, সদস্য দেশগুলো নিজস্ব মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে এবং নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়ে একমত।” তবে ব্রিকসের একক কোনো মুদ্রা (Common Currency) চালুর বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মোদির বার্তা
শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত কীভাবে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জ্বালানি থেকে শুরু করে প্রযুক্তি পর্যন্ত প্রতিটি খাতেই ভারত তার সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে বহুমুখী ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।” এছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে নিরাপদ সমুদ্রপথ এবং নাবিকদের সুরক্ষার ওপরও জোর দেন তিনি।
কারা যোগ দিচ্ছেন এবারের সম্মেলনে?
মূল ব্রিকস জোট এখন আর আগের জায়গায় সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই জোটের সদস্য।
এছাড়া অংশীদার দেশ হিসেবে বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম রয়েছে।
ইতিমধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারপারসন ও বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্তে এনদাইশিমিয়ে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালাসহ আরও অনেক শীর্ষ নেতা।
