![]()
এসএসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষক ও শিক্ষকদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
- 📝 পরীক্ষকদের জবাবদিহি: এসএসসি খাতা চ্যালেঞ্জে নতুন করে ৩,০৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় দায়িত্বজ্ঞানহীন পরীক্ষকদের শাস্তির নির্দেশ।
- 📚 ডিসেম্বরেই নতুন পাঠ্যবই: সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
- 🎓 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসন: বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ক্লাসরুম মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।
- 🚫 ল কলেজের ফি বৃদ্ধিতে ক্ষোভ: ল কোর্সের ফরম ফিলাপ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করার কঠোর সমালোচনা করে আয় বাড়ানোর এই মানসিকতা বন্ধের তাগিদ।
- 🏆 প্রথম ভিসি অ্যাওয়ার্ড: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি ও শিক্ষকদের শাস্তি
পুনর্নিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তনের তথ্য তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেল। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে—এত নম্বর কীভাবে বাড়ল? যেসব শিক্ষক ও পরীক্ষক খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের শাস্তির মুখে পড়তেই হবে।” পরীক্ষকদের এমন উদাসীনতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ডিসেম্বরে পাঠ্যবই বিতরণ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার
আগামী শিক্ষাবর্ষের বই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে। অনেক ভঙ্গুর ও দুর্নীতির মধ্যে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ।” এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও সেশনজট দূর করার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, বাজারের চাহিদানুযায়ী কোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অর্জনের পর বেকারত্ব ঘোচানো নিশ্চিত করা হবে।
ল কলেজের ফি বৃদ্ধিতে হুঁশিয়ারি ও ভিসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান
ল কলেজের ফরম ফিলাপের ফি হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী টাকা আয় করার জন্য? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবই।” অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ ৫৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান ও সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অনুষ্ঠানের নাম | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান |
| প্রধান অতিথি | ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী) |
| এসএসসি খাতা মূল্যায়ন বিতর্ক | পুনর্নিরীক্ষণে নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,০৭৯ জন; সংশ্লিষ্টদের শাস্তির ঘোষণা |
| পাঠ্যবই বিতরণের সময়সীমা | আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই নিশ্চিতকরণ |
| ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড | প্রথমবারের মতো মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান |
