![]()
ওসমান সরওয়ার
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটির মহাসচিব, বাংলাদেশ ইউনিয়র পরিষদ ফোরাম এর সিনিয়র সহসভাপতি, বিশিষ্ট মানবাধিকার ও টকশো ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট, রাষ্ট্রচিন্তক ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মানবতার ফেরিওয়ালা এম গফুর উদ্দিন চৌধূরীর শুভ জন্মদিন। সেই সাথে আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট জনেরা, বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আজাদ, সাবেক বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন, কর্নেল অবঃ আশরাফ আল দীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর কবি হাসিনা মমতাজ হাসি, সাবেক অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন, দেশবরেণ্য সাংবাদিক রেহেনা সালাম, সাবেক ডিআইজি কবি আনোয়ার হোসেন, নজরুল গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তক ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, অভিনেতা এন ডি বাদল,ি জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাসরিন ইসলামসহ বহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে নানান আনন্দ আয়োজন করেছে।
প্রচণ্ড ব্যস্ততায় ও অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতেও যিনি বিরতিহীন জনগণের সেবা করে মজলুম জননেতা হিসেবে আমজনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, তিনি হলেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনতার নেতা এম. গফুর উদ্দিন চৌধূরী। তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে শোয়ানো অবস্থায়ও জনগণের কাজ করে দিতেন। এলাকাবাসী তাঁর এই মহানুভবতার পরিচয় দেওয়াকে সম্মান ও প্রশংসা করতেন।
আজ জন্মদিনে এম. গফুর উদ্দিন চৌধূরীর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক নিরপেক্ষ এর উখিয়া প্রতিনিধি ওসমান সরওয়ার। তার সাক্ষাৎকারটি পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, বিভিন্ন মৌশুমী নেতার ভিড়ে এখন জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে মানবতার ফেরিওয়ালা এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী আমজনতার রায়ে আবারো বিজয়ের মালা জনগন হয়তো তাকেই পরাবেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।
চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধূরী পালংখালী ইউনিয়নের মুসলিম সাম্রাজ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম সুলতান আহমদ চৌধূরী ১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮০ সালে তিনি গ্রাম সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গফুর উদ্দিন পৈত্রিক সূত্রে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও নিজে দীর্ঘ সময় যুবদল, জেলা যুবদল ও শ্রমিকদলে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। যদিও দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু নেতার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়।
তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে প্রথম ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যদিও সেবার পরাজিত হন। ১৯৯৭ সালেও ব্যর্থতা আসে। তবে ২০১১ সালে তিনি জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোকতার আহমদ এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলী আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০১৬ ও ২০২১ সালে টানা দু’বার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হন। ২০১৩ সালে প্রচারণার মাইক ও গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ চারটি মামলা এবং ২০১৮ সালে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ মোট ১৯টি মামলার আসামি হন। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হলেও চারবার তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই হাইকোর্টের আদেশে তিনি পুনর্বহাল হয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও দানশীলতা
২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। স্ত্রী জান্নাতারা বেগম, বড় মেয়ে নাসরিন সুলতানা কলি, মেঝ মেয়ে হুমায়রা সুলতানা শিউলি, ছেলে এম. শহীদ উদ্দিন চৌধূরী এবং ছোট মেয়ে মাহিয়া সুলতানা। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।
তিনি থাইংখালী বাজারে ১৩ শতক জমি দান করেছেন, যার বাজার মূল্য আধা কোটি টাকারও বেশি। তার পিতা পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য জমি এবং থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্যও জমি দান করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অসংখ্য স্কুল ও মসজিদে জমি দান করা হয়েছে।
অর্জন ও সম্মাননা
সাউথ এশিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ – দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সম্প্রীতি রক্ষায়।
মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য অর্জন আছে মানবসেবা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে।
এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী কেবল একটি নাম নন, বরং সংকটে-সংগ্রামে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ভরসাস্থল। যেখানেই আর্তনাদ, যেখানেই অবহেলা বা দারিদ্র্যের কষাঘাত—সেখানেই তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পরম মমতায়। কোনো প্রতিদান বা যশের আশা না করে, শুধু মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে তিনি ছুটে চলেন অবিরাম। তাঁর এই ক্লান্তিহীন পথচলা সমাজকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের সকলের একটাই প্রার্থনা—মহান সৃষ্টিকর্তা যেন এই মহানুভব মানুষকে দীর্ঘায়ু দান করেন। মহান রবের দরবারে আমাদের আকুল প্রত্যাশা, তিনি যেন এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীকে সর্বদা সুখ, শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি দান করেন। তিনি যেন সব ধরনের ব্যাধি থেকে মুক্ত থেকে নিরোগ এবং নেক হায়াত লাভ করেন।
আমরা আশা ও বিশ্বাস রাখি, জীবনের বাকি দিনগুলোতেও তিনি একইভাবে আর্তপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন। তাঁর ভেতরের মানবিক সত্তা যেন আরও বিকশিত হয় এবং তিনি যেন মানবতার সেবায় নিজের বাকি জীবন সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করতে পারেন।
শুভ জন্মদিনে মানবতার এই আলোর দিশারীকে জানাই আমাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনার পথচলা হোক আরও দীপ্তিময় ও সফল।
