![]()
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সার্থক ও সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
- 🌐 কর্মসূচি ও স্থায়িত্ব: ৪ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি বৈশ্বিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
- 🎤 ভাষণ ও উচ্চপর্যায়ের সভা: সাধারণ পরিষদে ঐতিহাসিক ভাষণসহ ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদান।
- 🤝 দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কুয়েতসহ ১১টি দেশের শীর্ষ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক।
- 💼 আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ: জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট, বোয়িং, গেটস ফাউন্ডেশন ও ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা।
বিশ্বমঞ্চে নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বনেতারা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন। জনগণের সরাসরি ও নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিশ্ব দরবারে দেশের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও মর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই সফরের মাধ্যমে নতুন সরকারের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বড় সুযোগ তৈরি করল।
৪ দিনের নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতায় ১১ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে অত্যন্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।
এছাড়া সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বহুবিধ ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ
বৈশ্বিক উন্নয়ন ও মানবিক বিষয়ক আলোচনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR), এবং মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক করেন। মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতাও তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, আন্তর্জাতিক বিমান তৈরি সংস্থা বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের খ্যাতনামা বিনিয়োগকারীদের সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশে কৌশলগত বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্ষেপে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অধিবেশন ও মেয়াদ | জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন (৪ দিনের সফর)। |
| সর্বমোট আন্তর্জাতিক কর্মসূচি | ৩০টি ইভেন্ট (সাধারণ পরিষদে ভাষাসহ ৭টি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা)। |
| দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক | ১১টি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। |
| অর্থনৈতিক বৈঠকসমূহ | ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রেসিডেন্ট, গেটস ফাউন্ডেশন, বোয়িং সিইও ও ওয়াল স্ট্রিট বিনিয়োগকারী। |
