![]()
গন্ধ, খোসা ও গঠন দেখে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ
শুধু কলার খোসার রং দেখেই রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্রাকৃতিকভাবে পাকানো কলার রংও অসমান হতে পারে। সংরক্ষণ, পরিবহন ও তাপমাত্রার তারতম্যসহ নানা কারণে কলার রঙে পরিবর্তন দেখা যায়। তাই নির্দিষ্ট কোনো রঙের ধরন দেখেই কলাকে ‘রাসায়নিক দিয়ে পাকানো’ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সাধারণত কলা সম্পূর্ণ পাকা অবস্থায় বাজারে আসে না। কাঁচা কলা সংগ্রহের পর নির্দিষ্ট পরিবেশে পাকানো হয়, যাতে পরিবহন ও সংরক্ষণ সহজ হয়। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইথাইলিন গ্যাস। ফল নিজেই প্রাকৃতিকভাবে ইথাইলিন তৈরি করে, যা পাকতে সাহায্য করে। বাইরে থেকে ইথাইলিন প্রয়োগ করে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা যায়। অনুমোদিত পদ্ধতিতে পাকানো হলে তা নিরাপদ। তবে নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কৃত্রিমভাবে কলা পাকানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত উপাদান হলো ক্যালশিয়াম কার্বাইড। এটি দিয়ে ফল পাকানো নিষিদ্ধ, কারণ এর ব্যবহারে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিষেধাজ্ঞার পর এর ব্যবহার কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
কলা কেনার আগে যা দেখবেন
১. গন্ধ: প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলায় সাধারণত মিষ্টি ও স্বাভাবিক গন্ধ থাকে। অস্বাভাবিকভাবে গন্ধ কম থাকলে সতর্ক হতে পারেন।
২. গঠন: পুরো কলা হলুদ হলেও যদি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত থাকে, তাহলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে কিনুন।
৩. অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং: অস্বাভাবিকভাবে বেশি উজ্জ্বল বা চকচকে রঙের কলা এড়িয়ে চলাই ভালো।
৪. রাসায়নিকের গন্ধ: কলা থেকে অস্বাভাবিক বা রাসায়নিকের মতো গন্ধ পাওয়া গেলে তা না কেনাই নিরাপদ।
৫. বিশ্বস্ত বিক্রেতা: পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকেই ফল কেনার চেষ্টা করুন।
৬. অতিরিক্ত পাকা কলা: বাড়িতে নেওয়ার পর কলা অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত বা অতিরিক্ত পেকে গেলে না খাওয়াই ভালো।
৭. পরিষ্কার করে খাওয়া: খাওয়ার আগে কলার খোসা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
সবশেষে, শুধু কলার রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর গন্ধ, গঠন, খোসার স্বাভাবিকতা ও সামগ্রিক অবস্থা দেখে ফল কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
