![]()
গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের এক বিরল মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘ ২১ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তির স্বাদ পেলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক অসহায় বন্দি। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। অবশেষে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় তার ৫ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে বুধবার (৭ অক্টোবর) তাকে কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
- 🤝 মানবিক উদ্যোগ: গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ।
- ⛓️ দীর্ঘ কারাবাস: একটি হত্যা মামলায় ২০০৫ সাল থেকে টানা ২১ বছর ধরে কারাগারে বন্দি ছিলেন মাসুদ বিশ্বাস।
- ⚖️ সাজা মওকুফ: কারা বিধির ৫৬৯ ধারার আওতায় সরকারের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়।
- 🕊️ মুক্তির আনন্দ: জরিমানার অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগের আগেই তিনি জেলের ঘানি থেকে মুক্তি পান।
হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২১ বছরের কারাবাস
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তি পাওয়া ওই বন্দির নাম মো. মাসুদ বিশ্বাস। একটি হত্যা মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (৩০ বছর) এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালত আদেশে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের ওই রায় অনুযায়ী তিনি ২০০৫ সাল থেকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন।
সাজা মওকুফ ও জরিমানার খড়গ
দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর, সম্প্রতি কারা বিধির ৫৬৯ ধারার আওতায় তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সরকার ওই ধারার আওতায় জরিমানার অর্থ পরিশোধের শর্তে তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে মুক্তির নির্দেশনা দেয়। কিন্তু মো. মাসুদ বিশ্বাস অত্যন্ত দরিদ্র, অসহায় ও সম্বলহীন হওয়ায় ওই ৫ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ কোনোভাবেই পরিশোধ করতে পারছিলেন না।
কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরল মানবিকতা
মাসুদ বিশ্বাসের এই করুণ আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ মানবিক এক উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় তারা ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে জরিমানার অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগের আগেই বুধবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অসহায় বন্দিদের প্রতি এমন মানবিক আচরণ তাদের সুস্থ জীবনে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সমাজে একটি দারুণ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিবরণ
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| কারাগারের নাম | গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার |
| মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি | মো. মাসুদ বিশ্বাস |
| সাজার ধরন | হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড (৩০ বছর) |
| কারাভোগের সময়কাল | দীর্ঘ ২১ বছর (২০০৫ সাল থেকে) |
| জরিমানার পরিমাণ | ৫,০০০ টাকা (অনাদায়ে আরও ৩ মাসের জেল) |
| মুক্তির আইনি ভিত্তি | কারা বিধির ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী অবশিষ্ট সাজা মওকুফ |
