Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

বিশ্ব জুড়ে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে অবিচল লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও বিচারক নাভি পিল্লাই। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এক জমকালো সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস জানান, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পিল্লাইয়ের ভূমিকা মানবজাতির জন্য এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের মূল দিকসমূহ

  • 🏆 পুরস্কার: বিশ্ব শান্তি, আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও মানবাধিকার রক্ষায় ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল অর্জন।
  • ⚖️ অগ্রগামী অবদান: রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দান।
  • 🌍 জাতিসংঘে নেতৃত্ব: ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (OHCHR) হিসেবে দায়িত্ব পালন।
  • ✊ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নারী: বর্ণবৈষম্যবিরোধী দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব আইন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক।

আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থার সুরক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস মন্তব্য করেন, বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে এবং প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতির চাপে যখন বৈশ্বিক আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই নাভি পিল্লাইয়ের বৈশ্বিক অবদান, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসিকতা ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছে দেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে তাঁর নীতিগত অবস্থান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে পদচারণা

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। ১৯৬৭ সালে ডারবানে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব আইনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে বর্ণবৈষম্য পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক নিযুক্ত হয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল, আইসিসি ও আন্তর্জাতিক আদালতের ট্রেইলব্লেজার

১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটিআর) বিচারক ও সভাপতি নির্বাচিত হন পিল্লাই। সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে যৌন সহিংসতা, গণধর্ষণ ও ঘৃণা ছড়ানোর ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি যুগান্তকারী আইনি ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক, ২০০৮-২০১৪ পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমার গণহত্যা মামলার স্থায়ী বিচারক এবং ২০২১-২০২৫ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

নোবেল বিজয়ী নাভি পিল্লাইয়ের সংক্ষিপ্ত জীবন ও পদক্রম

ক্ষেত্র / ক্যাটাগরি বিস্তারিত বিবরণ
পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই (Navi Pillay) – দক্ষিণ আফ্রিকা
জন্ম ও শিক্ষা ১৯৪১ (ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা); হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে এলএলডি (১৯৮৮)
প্রধান আন্তর্জাতিক পদসমূহ ইউএনবিএইচসিএইচআর প্রধান (২০০৮-২০১৪), আইসিটিআর প্রেসিডেন্ট, আইসিসি বিচারক, আইসিজে এডহক বিচারক
নোবেল বিজয়ের কারণ আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুবিচার নিশ্চায়ন

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।