Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ইস্কাটনে কৃষকের বাজার উচ্ছেদ, কৃষককে হাতকড়া পরানোর অভিযোগ

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৩:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে সাপ্তাহিক কৃষকের বাজার উচ্ছেদ করেছে রমনা থানা পুলিশ। এ সময় মো. সোহরাব হোসেন নামে এক কৃষককে মারধর, জামা ছিঁড়ে ফেলা এবং হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তবে উচ্ছেদের কারণ হিসেবে রাস্তা পরিষ্কার রাখা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ইস্কাটন গার্ডেনের ফুটপাতে বসা কৃষকের বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। বাজারটিতে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে আসা কৃষকেরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত শাকসবজি বিক্রি করতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে নিয়মিত সেখান থেকে পণ্য কিনতেন।

চার বছর ধরে বসছিল কৃষকের বাজার

বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে কৃষি মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বাজারটি চালু করা হয়। এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার ভোরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে কৃষকেরা তাজা শাকসবজি নিয়ে সেখানে আসতেন।

বাজারটিতে প্রায় ১০টি দোকান ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজার পরিচালনার জন্য তাঁদের কাছে কৃষক কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এত দিন সেখানে ব্যবসা করতে তাঁদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।

তবে শুক্রবার সকালে পুলিশ এসে তাঁদের দ্রুত দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে দোকান গুটিয়ে নিতে বলা হয়। তাঁরা কাগজপত্র দেখালেও পুলিশ সেগুলো আমলে নেয়নি।

কৃষককে হাতকড়া পরিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ

ভুক্তভোগী কৃষক মো. সোহরাব হোসেনের অভিযোগ, দোকান সরাতে সামান্য দেরি হওয়ায় এক পুলিশ সদস্য তাঁর জামা টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের একটি ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

সোহরাবের ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি এক ক্রেতাকে কাঁচামরিচ মেপে দিচ্ছিলেন, আর তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি দোকানের জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন। এ কারণে দোকান সরাতে কয়েক মিনিট দেরি হয়।

তিনি জানান, প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সোহরাব আরও বলেন, বাজারের ১০ জন ব্যবসায়ীর মধ্যে নয়জনের বাড়ি সাভারের হেমায়েতপুরে। চার বছর ধরে তাঁরা সেখানে সবজি বিক্রি করছেন। আগে কেউ তাঁদের কাছে চাঁদা বা টাকা দাবি করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

বাজার উচ্ছেদের কারণে তাঁদের বিপুল পরিমাণ সবজি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান এই কৃষক।

চাঁদা দাবির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তাঁদের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বিক্রি শেষে ফুটপাতে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কারের জন্য তাঁরা প্রতি দোকান থেকে ২০ টাকা করে দিতেন। তাঁদের দাবি, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওই ময়লা পরিষ্কার করতেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা চার বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারটি উদ্বোধন করেছিলেন। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সেগুলো বিবেচনায় নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উচ্ছেদের ফলে প্রতিটি দোকানে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

পুলিশের বক্তব্য কী?

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, ইস্কাটন গার্ডেনে এ ধরনের বাজার বসার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। বাজারটির সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।

ওসির ভাষ্য, রাস্তা পরিষ্কার রাখা ও যানজটমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তবে কৃষককে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ইস্কাটন গার্ডেনের একই সড়কের এক পাশে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফাস্টফুডের দোকান বসে। সেসব দোকানকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

আবার বাজার বসানোর দাবি কৃষকদের

হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করে আসার পর কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই এভাবে উচ্ছেদ করায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন।

কৃষকদের আবেদন, তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করে মানবিক বিবেচনায় আবারও সেখানে সবজি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হোক।

বাজারটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, উচ্ছেদের প্রশাসনিক ভিত্তি এবং কৃষককে আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

 

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।