![]()
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। একই সঙ্গে তিনি আদালত এবং এর সঙ্গে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন পক্ষ ও ব্যক্তিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকারের সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইসিসি এবং এর কর্মীরা প্রতিদিন যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তুর্ক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের হয়ে বা আদালতের সাথে কাজ করছেন, তাদের মনে যেন এটি কোনো নেতিবাচক বা ভীতিকর প্রভাব তৈরি করতে না পারে। আমি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ‘রোম সনদের’ ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে—যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পুরো দুই-তৃতীয়াংশ—আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজকে রক্ষা করতে এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের তৈরি করা এই প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করার বিশেষ বাধ্যবাধকতা তাদের রয়েছে।’
এ ছাড়াও, যেসব দেশ এখনও এই আদালতের সদস্য হয়নি, তাদেরকেও আদালতের স্বাধীনতা ও কাজের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক ঘোষণাটি মূলত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞারই অংশ। এর আগে আদালতের ১৮ জন বিচারকের অর্ধেক, সাবেক প্রসিকিউটর, উভয় ডেপুটি প্রসিকিউটর এবং আইসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তুর্ক এর আগেও জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ‘আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী নিজস্ব ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক স্তরের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা আইনের শাসনের ওপর একটি বড় আঘাত এবং এটি ন্যায়বিচারকে কলঙ্কিত করে।’
হাইকমিশনার ইতিপূর্বে রাশিয়ান ফেডারেশনে আইসিসির তৎকালীন প্রসিকিউটর এবং আটজন বিচারকের বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতে দেয়া কারাদণ্ডের দণ্ডাদেশেরও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন, যেখানে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।
আইসিসি এবং এর কর্মীদের বিরুদ্ধে আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তুর্ক বলেন, আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করা সমস্ত সংঘাত ও সংকটের দিকে তাকালে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি মূলত সহিংসতা এবং মানুষের দুর্ভোগকে আরও উস্কে দেয়। যারা গুরুতর অপরাধের তথ্যপ্রমাণ নথিভুক্ত করছেন, তদন্ত করছেন এবং বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন—তাদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে আমাদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।
