Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৬ অভ্যাস

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে স্ট্রোক হতে পারে। এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতা তৈরি করতে পারে। বয়স, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো বিষয় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও এই ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ভারতের নিউরোলজিস্ট ডা. রীতু ঝার মতে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং ঘুমের ঘাটতির মতো বিষয় স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা না করানোও বিপদের কারণ হতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ছয়টি অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং কীভাবে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

১. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও ব্যায়াম না করা

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের জীবনযাপনের কারণে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এসব সমস্যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা সাঁতারের মতো শারীরিক কার্যকলাপে অভ্যস্ত হওয়া যেতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করাও উপকারী। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

২. ধূমপানের অভ্যাস

স্ট্রোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ ধূমপান। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। একই সঙ্গে রক্তনালীতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসাও হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালীর জন্য ক্ষতিকর। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া এবং ধূমপানের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও কোলেস্টেরলের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম ও গোটা শস্যের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

৪. অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দে অস্বাভাবিকতা, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের ঝুঁকিও বাড়ায়। এ অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত জমাট বেঁধে তা মস্তিষ্কে পৌঁছালে ইস্কেমিক স্ট্রোক হতে পারে।

তাই অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত বা অতিরিক্ত পান করার অভ্যাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা কমানোর পরিকল্পনা করা উচিত।

৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকা এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় সমস্যা ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবনতির সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয় পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা অবহেলা করা

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। এসব সমস্যা অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন থাকতে পারে। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করালে ঝুঁকি সম্পর্কে জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করা উচিত নয়। বিশেষ করে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা উচিত নয়।

এ ছাড়া হঠাৎ দৃষ্টিতে সমস্যা, ভারসাম্য হারানো বা অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথাও সতর্কসংকেত হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। লক্ষণ কিছুক্ষণ পর সেরে গেলেও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষার প্রথম ধাপ

স্ট্রোকের সব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সুস্থ থাকতে শুধু একটি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই যথেষ্ট নয়; বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।