![]()
প্রয়োজন দেখা দিলে এবং সরকারের তরফ থেকে অনুমতি মিললে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ চালাতে পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
- 🎯 ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে: পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে এবং সরকারের অ্যালাউন্স পেলে পুলিশ আইনানুগভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
- ⚖️ আইন ও সংবিধান: কে আসবে বা কার কী অবস্থা, তা পুলিশ দেখবে না; সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনই মূল লক্ষ্য।
- 🛑 নাগরিক স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা: স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়; আইন ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে সবাইকে থাকতে হবে।
‘সংবিধান অনুযায়ী যখন যা দরকার, সেটাই করা হবে’
চকবাজারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, কে আসবে বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার আগমন ঘটবে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় নয়। পুলিশ কেবল আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, ঠিক সেটাই প্রয়োগ করবে। তিনি বলেন, লাঠিপেটা করলে পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আবার নীরব থাকলে দুর্বল তকমা দেওয়া হয়। তাই পুলিশকে সঠিকভাবে কাজ করার পরিবেশ ও পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
পুলিশের ভূমিকা এবং নাগরিক সচেতনতার আহ্বান
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষের জীবনে পুলিশের অপরিহার্যতার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। তাই আইন ও সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকে পুলিশকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের গুজব বা ভিত্তিহীন অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান আইজিপি।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদে ১০১ জন নাগরিকের দেওয়া বিবৃতি প্রসঙ্গে আইজিপি মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে মানে এই নয় যে কেউ আইন লঙ্ঘন করে যা খুশি তাই করতে পারবেন। সমাজকে টিকিয়ে রাখতে দেশের নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং আইনি সীমার ভেতরেই সবাইকে আচরণ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
