Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

শিশুদের ওজন বাড়াচ্ছে অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

শিশুদের খাদ্যতালিকায় অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য ভবিষ্যতে শরীরে চর্বি জমা ও ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের খাবার বেশি খাওয়া শিশুদের মস্তিষ্কে মুখরোচক খাবারের ছবি দেখলে আনন্দ ও পুরস্কার-সংশ্লিষ্ট একটি অংশ বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর মস্তিষ্কের এই অতিরিক্ত সক্রিয়তার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে শরীরের চর্বি ও বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের বিশেষ প্রতিক্রিয়া শিশুদের ভবিষ্যৎ ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে এসব খাবারই ওজন বাড়ার কারণ।

যেসব খাবারকে অতিপ্রক্রিয়াজাত বলা হচ্ছে

অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার বলতে সাধারণত শিল্পকারখানায় বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে তৈরি এমন খাবারকে বোঝায়, যেগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং সহজে খাওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে প্যাকেটজাত পাউরুটি, সকালের নাশতার সিরিয়াল, ইনস্ট্যান্ট স্যুপসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত খাবার। এসব খাবারে প্রায়ই কৃত্রিম মিষ্টিকারক, রং, স্বাদবর্ধক ও ঘরে সাধারণত ব্যবহার করা হয় না—এমন উপাদান থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে এসব খাবারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। দেশটির শিশুদের দৈনিক মোট ক্যালরির প্রায় ৬৭ শতাংশ আসে অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে।

আগের বিভিন্ন গবেষণায় এ ধরনের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব খাবার শরীরে ঠিক কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

৪৬ শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বিশ্লেষণ

নতুন গবেষণায় সাত থেকে ১০ বছর বয়সী ৪৬ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ব্রেইনচাইল্ড গবেষণার অংশ।

শিশুদের ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকির পেছনে কোন বিষয়গুলো কাজ করে, তা খুঁজে বের করাই এই গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

গবেষণার শুরুতে শিশুদের সবার ওজন স্বাভাবিক ছিল। প্রথমে তাদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান করা হয়। এ সময় কুকিজ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ছবি দেখানো হয়।

পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকেরা। তাদের বিএমআই, শরীরে চর্বির পরিমাণ ও কোমরের মাপও নেওয়া হয়। এক বছর পর আবার একই শারীরিক পরিমাপ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়, তাদের মস্তিষ্কের ডরসাল স্ট্রায়াটাম নামের অংশটি আকর্ষণীয় খাবারের ছবি দেখার সময় তুলনামূলক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

মস্তিষ্কের এই অংশ আনন্দ, পুরস্কারের অনুভূতি এবং কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা প্রেরণার সঙ্গে সম্পর্কিত। খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ ও প্রতিক্রিয়া তৈরিতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

মস্তিষ্কের সক্রিয়তার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির সম্পর্ক

গবেষণার এক বছর পর শিশুদের শারীরিক পরিমাপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যাদের মস্তিষ্কের ডরসাল স্ট্রায়াটাম খাবারের ছবি দেখলে বেশি সক্রিয় হয়েছিল, তাদের বিএমআই ও শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।

গবেষকদের বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, মস্তিষ্কের এই অংশের কার্যক্রম বিবেচনায় নেওয়ার পর অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে বিএমআই বৃদ্ধির সম্পর্ক ৩১ শতাংশ কমে যায়। শরীরে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক কমে ৪৪ শতাংশ।

গবেষকদের মতে, এর অর্থ হলো, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ ও শরীরের গঠন পরিবর্তনের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে মস্তিষ্কের পুরস্কার-সংশ্লিষ্ট প্রতিক্রিয়া একটি ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার কেক স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ক্যাথলিন এ পেজ বলেন, শৈশব মস্তিষ্কের বিকাশ এবং খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশুরা খাবার ও আশপাশের খাদ্যপরিবেশের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে।

তাই শৈশবেই খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়গুলো বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু পরিবারের ওপর দায় চাপানো যাবে না

গবেষকদের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার সাধারণত তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়, সহজলভ্য এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। ফলে সময় ও অর্থের সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন পরিবারের কাছে এসব খাবার অনেক সময় সহজ বিকল্প হয়ে ওঠে।

অধ্যাপক ক্যাথলিন এ পেজের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে হলে কম প্রক্রিয়াজাত ও পুষ্টিকর খাবার সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে সামগ্রিক খাদ্যপরিবেশেও পরিবর্তন আনা জরুরি।

গবেষণার সীমাবদ্ধতা কী?

গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, এতে মাত্র ৪৬ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই ফলাফল সব শিশুর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া এটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। তাই অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার কারণেই মস্তিষ্কের কার্যক্রম বেড়েছে কিংবা শরীরে চর্বি জমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। গবেষণায় বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে, কারণ-প্রভাবের সরাসরি প্রমাণ নয়।

ব্রেইনচাইল্ড গবেষণার আওতায় শিশুদের বয়ঃসন্ধিকাল পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, খাদ্যাভ্যাস, শরীরের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

গবেষকদের আশা, দীর্ঘ সময়ের এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শৈশবের খাদ্যাভ্যাস কীভাবে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

সূত্র: সায়েন্সডেইলি

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।