![]()
মোহাম্মদ করিম, মফস্বল সম্পাদক।
বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই শতাধিক ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ইটভাটার জন্য পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, কাঁচা ইট তৈরি এবং ইট পোড়ানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ কাঠ মজুত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া, ফাইতং, পাগলীরছড়া, ইয়াংছা, কাঠালছড়া, রইঙ্গা ও মালুম্ম্যাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ইটভাটার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া আলীকদমের তারাবনিয়া ও আমতলী এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ঘুমধুম এলাকায়ও ইটভাটা স্থাপনের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ি মাটি কেটে কাঁচা ইট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইট পোড়ানোর জন্য ভাটার আশপাশে কাঠের লাকড়ি মজুত করা হয়েছে। তবে এসব ইটভাটার প্রকৃত সংখ্যা, অনুমোদনের অবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পাহাড় ও বনাঞ্চল নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগ
পরিবেশ সচেতন মহলের আশঙ্কা, পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ এবং ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বনজ কাঠ ব্যবহার করা হলে এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পাহাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে পরিবর্তন ঘটতে পারে। অন্যদিকে, নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালু স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষিজমি এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে?
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এবং এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার সুযোগ নেই। এ ছাড়া নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং বন আইনের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতিসাধন, অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
এ পরিস্থিতিতে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীরা।
তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ইটভাটাগুলোর অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই, পাহাড় কাটা বন্ধ, মজুত করা কাঠের উৎস অনুসন্ধান এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ জন্য বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই উন্নয়ন ও ইট উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
