![]()
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে, গণপিটুনিতে নিহত প্রধান অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের মরদেহ নিতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এসআই মো. ইয়াকুব জানান, নিহত অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানাধীন চরভাটা এলাকার চরবজলুল করিম গ্রামের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। অন্তরের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট চরজব্বর থানা-পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁর নৃশংস অপরাধের কথা জানতে পেরে পরিবারের কোনো সদস্য বা স্বজন মরদেহ নিতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় নিহতের দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইকে লক্ষ্মীপুরে আনা হয়। ১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল জানান, সুরুতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহটি পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিলে, পুলিশ তা ওই দূর সম্পর্কের চাচার কাছে হস্তান্তর করে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি রুজু করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন অন্তর মজুমদার। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফা (৯) প্রাণ হারান। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অন্তরকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই অন্তরেরও মৃত্যু হয়।
