![]()
নিউজ প্রোভাইডার
বান্দরবানের থানচি উপজেলার এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রধান শিক্ষকের অনন্য এক সংগ্রামের গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে। শিক্ষাদানের মহৎ ব্রত ধরে রাখতে এবং সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নিজেই ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক ত্যাগ ও লড়াইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে স্কুলটিকে খুব শিগগিরই জাতীয়করণের (সরকারি) নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সহকর্মীদের বেতন দিতে পর্যটক পরিবহন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানচির তিন্দু এলাকার শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ফলে তাদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বা পর্যাপ্ত কোনো বেতন-ভাতা পায় না। এই চরম আর্থিক সংকট কাটাতে ও স্কুলের চাকা সচল রাখতে এক অভিনব পথ বেছে নেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন।
তিনি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নদীপথে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করেন। সারা দিন নৌকা চালিয়ে যে টাকা আয় হয়, সেখান থেকে নিজের যৎসামান্য খরচের টাকা রেখে বাকি সবটুকুই অন্য শিক্ষকদের বেতন হিসেবে বিলিয়ে দেন তিনি।
সরকারি স্বীকৃতি ও জাতীয়করণ
একজন প্রধান শিক্ষকের এমন নিঃস্বার্থ ও সংগ্রামী জীবনকাহিনী সংবাদমাধ্যমে আসার পর তা সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে আসে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষকদের এই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয়করণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
