![]()
নিউজ প্রোভাইডার
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান তথা রাষ্ট্রপতির পদটি সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। দেশের সর্বোচ্চ এই পদে আসীন ব্যক্তির নির্বাচন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদত্যাগ কিংবা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের সার্বিক প্রক্রিয়া একটি সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক নিয়মে পরিচালিত হয়। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোর আলোকে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ: দেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণ পরোক্ষভাবে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্যদের সরাসরি গোপন ভোটাভুটির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
নির্বাচনের সময়সীমা (১২৩ অনুচ্ছেদ):
স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতির ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণজনিত কারণে মেয়াদের আগেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, পদ খালি হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়।
২. পদত্যাগ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পদ
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ: কোনো রাষ্ট্রপতি মেয়াদের মাঝপথে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়তে চাইলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজস্ব স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব (৫৪ অনুচ্ছেদ):
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, কিংবা অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে—নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দৈনন্দিন কার্য পরিচালনা করেন।
৩. অপসারণ ও ইমপিচমেন্ট (অভিশংসন) প্রক্রিয়া
সংবিধানে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠিন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে:
গুরুতর অপরাধ বা সংবিধান লঙ্ঘন (৫২ অনুচ্ছেদ): রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অপরাধের (Impeachment) অভিযোগ উঠলে সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে স্পিকারের কাছে নোটিশ দিতে হয়। সংসদীয় নোটিশ বা অভিযোগের বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও তদন্তের পর যদি সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়, তবে রাষ্ট্রপতি পদচ্যুত হন।
শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্য (৫৩ অনুচ্ছেদ): শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতিকে অপসারিত করতে হলেও সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত নোটিশ জমা দিতে হয়। এরপর মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয় এবং সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে তিনি অপসারিত হন।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং শাসনতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ সংক্রান্ত এই আইনি ব্যবস্থাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
