Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

৫ মাসেই ২০৪ কোটি ডলার ঋণ শোধ, রেকর্ড গড়ল বিএনপি সরকার

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড গড়েছে বিএনপি সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই—এই পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সরকার পরিশোধ করেছে ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অঙ্ক।

গত বছরের একই সময়ে সরকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪১ কোটি ডলার করে বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে হয়েছে সরকারকে।

আগের ঋণের কিস্তিই এখন বড় চাপ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয় আগের সরকারের নেওয়া বিদেশি ঋণের ক্রমবর্ধমান কিস্তি ও সুদ পরিশোধ।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে নেওয়া বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে গেছে। ফলে এখন এসব ঋণের আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক ঋণ নেওয়া হয়েছে। তবে ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’, প্রত্যাশিত সুফল ও সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বড় ধরনের আর্থিক দায় ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এসব দায়ও সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

তিতুমীর বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।’

ঋণের বোঝা বাড়ছে, বাড়ছে পরিশোধও

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ হয়েছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৭ কোটি ডলারে। পরের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়ে হয় ৪০৯ কোটি ডলার

আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৪৯ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই বাড়তি চাপের বড় কারণ সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া ঋণ নয়; বরং আগের বছরগুলোতে নেওয়া বড় প্রকল্প ঋণের কিস্তি এখন পরিশোধযোগ্য হয়ে ওঠা।

নতুন ঋণে সতর্ক সরকার

আগের সরকারের নেওয়া ঋণের দায় পরিশোধের পাশাপাশি নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে বর্তমান সরকার।

তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুফল, সম্ভাব্য রিটার্ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

তার ভাষায়, ঋণ নেওয়া হবে শুধু অর্থ সংগ্রহের জন্য নয়; বরং সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হবে, বিনিয়োগ থেকে কী ধরনের অর্থনৈতিক সুফল আসবে এবং ভবিষ্যতে সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকবে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ নিয়মিত পরিশোধ, অন্যদিকে নতুন ঋণ গ্রহণে সতর্কতা—এই দুই নীতির সমন্বয় করতে পারলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতাদের কাছে বাংলাদেশের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।