![]()
বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া ‘সেপা’ চুক্তিতে প্রাথমিক সমঝোতা: শুল্কমুক্ত হচ্ছে যেসব পণ্য
দক্ষিণ কোরিয়ার খাদ্য, যানবাহন এবং শিল্পপণ্য আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি দুই দেশের পরিষেবা ও অবকাঠামো বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (CEPA) বা ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ।
ঢাকায় এক যৌথ ঘোষণায় দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু (Yeo Han-koo) এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সাথে এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় ‘সেপা’ (CEPA) চুক্তি।
চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কোরীয় বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন:
“দক্ষিণ কোরিয়া-বাংলাদেশ সেপা চুক্তি কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের এক প্রতিশ্রুতিশীল ও বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারের সাথে সংযুক্ত করবে।”
যেসব পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার হচ্ছে
এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে কোরিয়ান ইন্সট্যান্ট নুডুলস, কফি, সিজনড সিউইড এবং বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস, যেগুলোর ওপর বর্তমানে ৮৫.৬% পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপিত রয়েছে।
এর পাশাপাশি, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য ‘ডিজেল’-এর ওপর থেকে ৬% শুল্কও বাতিল করা হবে। প্রধান সেমি-নকড-ডাউন (SKD) যানবাহন এবং অটোমোবাইল খাতের সমস্ত যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক তুলে নেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোরিয়ার তৈরি সম্পূর্ণ যানবাহনগুলোও বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের তুলনায় কোনো অংশেই কম অনুকূল সুবিধা পাবে না।
একনজরে: বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া ‘সেপা’ (CEPA) চুক্তি
| বিষয় | চুক্তির বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আলোচনা শুরু ও ধাপ | নভেম্বর ২০২৪-এ শুরু, মোট ৫টি আনুষ্ঠানিক রাউন্ড সম্পন্ন। |
| শুল্কমুক্ত ভোগ্যপণ্য (কোরিয়ান) | নুডুলস, কফি, সিউইড ও স্ন্যাকস (আগে শুল্ক ছিল ৮৫.৬% পর্যন্ত)। |
| জ্বালানি খাতে ছাড় | ডিজেলের ওপর ৬% শুল্ক বাতিল। |
| যানবাহন ও যন্ত্রাংশ | SKD যানবাহন এবং সকল অটো পার্টস সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত। |
চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও পরবর্তী পদক্ষেপ
২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় এবং সর্বশেষ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মোট পাঁচটি রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিদল এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কারিগরি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন। এরপর চুক্তিটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সকল অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
