![]()
হাজী নান্না বিরিয়ানিতে মিলল পোকা, ১০ হাজার টাকা জরিমানা
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, পচা মাংস সংরক্ষণ এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে বান্দরবান পৌরসভার মাইক্রোবাস স্টেশনসংলগ্ন হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বান্দরবান সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের সহায়তায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে এক ভোক্তা প্রতিষ্ঠানটি থেকে এক প্যাকেট খাসির বিরিয়ানি কিনে বাসায় নিয়ে যান। খাবার খাওয়ার সময় তিনি বিরিয়ানির মাংসের মধ্যে পোকা দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাতে তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাকে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।
পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে যা পাওয়া গেছে
অভিযানকালে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর, খাবার তৈরির স্থান ও সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। তারা সেখানে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পান। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পচা মাংসের মধ্যে জীবাণুবাহী পোকামাকড় পাওয়া যায়। একই ফ্রিজে পুরোনো কাঁচা মাংস সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণও মেলে।
এ ছাড়া খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং পোড়া তেল ও ঘি ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের অনেকেই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছিলেন না বলেও অভিযানে ধরা পড়ে।
জরিমানা ও প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং পচা বা পুরোনো খাদ্য সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
