Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ১৯ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার: সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিউজ প্রোভাইডার 

বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া ও পরিবেশের আর্দ্রতার কারণে এডিস মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাবে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু জ্বর। সঠিক সময়ে লক্ষণ চেনা এবং বৈজ্ঞানিক নিয়মে সেবা প্রদান করলে ঘরে বসেই সিংহভাগ রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব কিংবা চিকিৎসায় একটু অসাবধানতা প্রাণঘাতী বিপদের কারণ হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের মূল কারণ

ডেঙ্গু মূলত ‘এডিস ইজিপ্টি’ ও ‘এডিস এলবোপিকটাস’ নামক বিশেষ দুই প্রজাতির স্ত্রী মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ডেঙ্গু ভাইরাস প্রধানত চার ধরনের হয়ে থাকে—DEN-1, DEN-2, DEN-3 এবং DEN-4। কোনো ব্যক্তি জীবনে একবার একটি নির্দিষ্ট ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে ওই ধরনটির বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠলেও অন্য কোনো ধরন দিয়ে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আমাদের বাসাবাড়ির ব্যালকনিতে থাকা ফুলের টব, এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি, রাস্তায় ফেলে রাখা প্লাস্টিকের বোতল কিংবা ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিই এডিস মশার বংশবৃদ্ধির মূল প্রজননক্ষেত্র।

লক্ষণ ও বিপদচিহ্ন 

সাধারণত এডিস মশার কামড় খাওয়ার ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মানবদেহে ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। রোগের শুরুতেই হঠাৎ ১০২° থেকে ১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত প্রচণ্ড জ্বর দেখা দেয়। এর পাশাপাশি মাথায় যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা, চোখের পেছনের অংশে ভার অনুভূত হওয়া, বমি বমি ভাব এবং শরীরের হাড়, পেশি ও জোড়ায় জোড়ায় তীব্র ব্যথা হয়—যার কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘ব্রেক বোন ফিভার’ বা হাড়ভাঙা জ্বর বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। এ সময় পেটে তীব্র ব্যথা, অনবরত বমি হওয়া বা বমির সঙ্গে রক্ত দেখা দেওয়া, নাক ও মাড়ি থেকে রক্তপাত এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্টের মতো ‘ডেঞ্জার সাইন’ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে প্রথম কাজ হলো রোগীকে সম্পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামে রাখা এবং শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন, ফলের জুস ও প্রচুর সাধারণ পানি পান করানো। জ্বর ও শারীরিক ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মনে রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা কোনো এনএসএআইডি (NSAID) জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না; কারণ এসব ওষুধ শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ঘরে বসে চিকিৎসা চলাকালীন দিন কিংবা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং বাসাবাড়ির আশপাশে ৩ দিনের বেশি পানি জমতে না দিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার প্রধান প্রতিকার।

বিপদচিহ্ন (যেমন: অনবরত বমি, পেটে তীব্র ব্যথা, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং চরম ক্লান্তি) দেখা দিলে কোনো ধরনের দেরি না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর তাগিদ দেন চিকিৎসকেরা।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।