![]()
নিউজ প্রোভাইডার
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসাধীন প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক জেমস আব্দুর রহিম রানাকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নিটোরের গ্রিন-২ ইউনিটের ইএফ ওয়ার্ডে গিয়ে সাংবাদিক রানার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা পরিস্থিতি ও পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
হাসপাতালে পৌঁছে সংসদ সদস্য প্রথমে সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে চলমান চিকিৎসা, একের পর এক জটিল অস্ত্রোপচার, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সামনে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি রহিম রানার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, অর্থোপেডিক রড, প্লেট, স্ক্রু ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও খোঁজ নেন।
এ সময় সংসদ সদস্য আহত সাংবাদিককে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য শুভকামনা জানান। দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে রহিম রানার পরিবার যে আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসকরা তাঁকে সাংবাদিক রহিম রানার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, দুর্ঘটনায় পায়ের গুরুতর ক্ষতি, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া সাতটি জটিল অস্ত্রোপচার এবং সামনে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের বিষয়ে অবহিত করেন। আসন্ন অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ইমপ্লান্ট এবং পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়েও চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় সাংবাদিক রহিম রানার ডান পায়ের হাড় একাধিক স্থানে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি পায়ের নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। পায়ের হাড়ের পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য আহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা, প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের সমস্যা এবং সামনে সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চান। পরিবারের সদস্যদের তিনি আশ্বস্ত করেন, চিকিৎসা যাতে অর্থের অভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পরিবারের সদস্যরা সংসদ সদস্যের কাছে দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রায় তাদের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান এবং একের পর এক অস্ত্রোপচারের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ইমপ্লান্ট সংগ্রহও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাকর্মী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন এবং চিকিৎসার এই কঠিন সময়ে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন—এটি অত্যন্ত মানবিক ও উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অধিকার ও বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তাই তাঁদের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের মানবিক দায়িত্বের অংশ।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, “সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমি তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও বিস্তারিত জেনেছি। চিকিৎসার প্রয়োজনীয় বিষয়ে আমরা যথাসম্ভব সহযোগিতার চেষ্টা করব এবং তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতির বিষয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “একজন সাংবাদিক সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আজ অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রয়েছেন। মানবিক বিবেচনায় তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা যেন অর্থের অভাবে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।”
সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত ও সন্তোষ প্রকাশ করেন সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালের শয্যায় থেকে একের পর এক অস্ত্রোপচার ও কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়ে একজন জনপ্রতিনিধি নিজে হাসপাতালে এসে তাঁর খোঁজ নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে সাহস পেয়েছেন।
জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিছানায়। একের পর এক অস্ত্রোপচার হয়েছে। সামনে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এই অবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তিটাও খুব প্রয়োজন। এমপি গাজী এনামুল হক আমার কাছে এসে যেভাবে খোঁজ নিয়েছেন, আমার চিকিৎসার কথা শুনেছেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ আমার কঠিন সময়ে অনেক বড় সাহস জুগিয়েছে।”
নিজের দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রার কথা তুলে ধরে রানা বলেন, “এই দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রায় অনেক মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহকর্মী সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার শক্তি দিচ্ছে। আমি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।”
এমপি গাজী এনামুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “মানুষের বিপদের সময়ে মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। আমার এই কঠিন সময়ে যারা পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের এই ঋণ কোনোদিন ভুলব না। বিশেষ করে গাজী এনামুল হক সাহেব যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন এবং মানুষের জন্য কাজ করার আরও শক্তি দেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে কেশবপুর উপজেলার ভেরচি এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ের হাড় একাধিক স্থানে ভেঙে যায় এবং পায়ের নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিটোরে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নিটোরে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক রানার ডান পায়ে ইতোমধ্যে সাতটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। পায়ের হাড়ের পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি প্রয়োজনীয় অর্থ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটারের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অস্ত্রোপচারটি পিছিয়ে যায়। প্রয়োজনীয় অর্থ, সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, অর্থোপেডিক রড, প্লেট, স্ক্রু ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইমপ্লান্টের ব্যবস্থা করা গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ এই চিকিৎসাযাত্রায় সাংবাদিক রানার পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন, সামাজিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা ও আর্থিক সহযোগিতায় কঠিন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রয়োজনীয় অর্থ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা। চিকিৎসার এই সংকটময় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, সহকর্মী সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত পুনর্বাসনের পথে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
