![]()
পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সরাসরি বিমান যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
- 🤝 পারস্পরিক সফরের আমন্ত্রণ: পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষে দেওয়া পাকিস্তান সফরের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি এবং তাঁকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
- ✈️ ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ: বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখাসহ এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
- 🛍️ অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানি বাণিজ্য মেলা: অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্যের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে; পাশাপাশি পাকিস্তানেও বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের মেলা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- 📦 পণ্য রপ্তানি ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য: বাংলাদেশের সিরামিক, ওষুধ, পান ও চা এবং পাকিস্তানের কটন ইয়ার্ন ও তৈরি পোশাকের ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
- 🎓 প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা বিনিময়: দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও প্রশাসন ক্যাডারের প্রশিক্ষণ বিনিময়সহ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দ্বিপক্ষীয় প্রদর্শনী
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের কটন ইয়ার্ন ও তৈরি পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানসম্মত সিরামিক, ওষুধ, পান ও চা পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্যের একটি মেলা আয়োজিত হবে এবং পাকিস্তানে অনুরূপ বাংলাদেশি মেলার জন্য আহ্বান জানান। এছাড়া ক্রীড়া সরঞ্জাম ও ফুটবল উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগে পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা বঙ্গভবনে তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
প্রশিক্ষণ বিনিময় ও শিক্ষা-প্রযুক্তিতে বৈচিত্র্যময় সহযোগিতা
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক রূপ দিতে কেবল বাণিজ্যিক ক্ষেত্রই নয়, বরং শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণে জোর দেওয়ার কথা জানান রাষ্ট্রপ্রধান। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও চিকিৎসাবিද্যায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক একনজরে
| আলোচনার ক্ষেত্র | মূল সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাশা |
|---|---|
| সাক্ষাৎ ও স্থান | রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও হাইকমিশনার ইমরান হায়দার (বঙ্গভবন) |
| বাণিজ্যিক ইভেন্ট | অক্টোবর ২০২৬-এ ঢাকায় একক পাকিস্তানি বাণিজ্য মেলা আয়োজন |
| যোগাযোগ খাত | ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা আরও বৃদ্ধি ও সুসংহত করা |
| সম্ভাব্য রপ্তানি পণ্য | বাংলাদেশ থেকে চা, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষি পণ্য; পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাক ও সুতা |
| প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন | সামরিক বাহিনী ও সিভিল প্রসাশনের বিনিময় প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ |
