![]()
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এত বড় অপকর্ম করার সাহস দুর্বৃত্তরা পেত না। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাকেন্দ্র পরিদর্শনের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
- 🏛️ আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ: সরকারি দলের মদদ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাট করা সম্ভব নয়।
- ⚖️ আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ: অপরাধে নিজ দলের কেউ তো দূরের কথা, তিনি নিজে জড়িত থাকলেও আইনের আওতায় আনার স্পষ্ট বার্তা।
- 🏥 স্বাস্থ্য খাতের দুর্দশা: পর্যাপ্ত জনবলের ৫০% ঘাটতি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চলছে, একই সঙ্গে ডাক্তার-নার্সদের অপমান বন্ধের দাবি।
- 🤝 পুনর্বাসনে সহায়তা: রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পুনর্গঠন ও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে জামায়াতের সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা।
“সর্প হয়ে দংশন আর ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক দেখতে চাই না”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন—জনগণ এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণ দেখতে চায় না। সর্প হয়ে দংশন করা, আর ওঝা হয়ে ঝাড়ার যে নাটক চলছে তা বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা চাই অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেই হোক, তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
তিনি সাম্প্রতিক ৩-৪ দিনে ঢাকায় ঘটা বিভিন্ন অপরাধের বিবরণ দিয়ে বলেন, মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা এবং ইসিবি চত্বরে জুলাই আন্দোলনের এক যোদ্ধার স্টুডিও ভাঙচুর গভীর উদ্বেগের বিষয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে গভীর রাতে কারও ওপর হামলা চালানো কোনো আইনি কাঠামোর মধ্যে পড়ে না।
চিকিৎসকদের অপমান ও স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর চিত্র
স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত প্রধান বলেন, সরকার একদিকে দুয়ারে দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যেখানে-সেখানে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের অপমান ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কখনোই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র অর্ধেক কর্মরত আছে। এই সীমিত জনবল দিয়েই কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্বাস্থ্য খাত টিকে রয়েছে। তাই চিকিৎসাকেন্দ্রে সকল ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে মানবিক ও যৌক্তিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অপরাধের সাথে দলীয় সম্পৃক্ততা না রাখার কঠোর ঘোষণা
ঘটনায় রাজনৈতিক রং চড়ানোর অপচেষ্টার আশঙ্কা ব্যক্ত করে জামায়াত আমির অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “এই ধরনের কোনো অপকর্ম বা হামলার সাথে আমার দলের কোনো নেতাকর্মী তো দূরের কথা, আমি নিজে জড়িত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আমাকে ছাড় না দেয়। স্পষ্ট বলছি, অপরাধ করলে আমাকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনুন।”
শেষে ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে আর্থিক ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই সহযোগিতা কেবল সূচনা। এই এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণে যা যা করার প্রয়োজন, আমরা বড় পরিসরে তাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”
মিরপুর চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও জামায়াত আমিরের বক্তব্য এক নজরে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আক্রান্ত প্রতিষ্ঠান | রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার, মিরপুর, ঢাকা। |
| পরিদর্শনের তারিখ | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সোমবার)। |
| আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক অবস্থান | সরকারি মদদ বন্ধের দাবি ও দোষীদের জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে শাস্তির আহ্বান। |
| স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মন্তব্য | জনবলের ৫০% ঘাটতি পূরণ ও চিকিৎসকদের ওপর হয়রানি বন্ধের দাবি। |
