Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ৭ জুন ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎রাষ্ট্রীয়বাদী দেশে কোনো কিছুই হুট-হাট নয়-ছয় করে বন্ধ করা উচিত নয়

প্রতিবেদক
Touch Bangladesh News
জুন ৭, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading


‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ধারাবাহিকতা। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনোই আবেগ, ক্ষোভ কিংবা সাময়িক চাপের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দপ্তর বা সেবামূলক কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান কেবল একটি ভবন, অফিস কিংবা নামমাত্র কোনো কাঠামো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ।

‎বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি রাষ্ট্রের শক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো তার প্রতিষ্ঠানসমূহ। প্রতিষ্ঠান যত শক্তিশালী, রাষ্ট্র তত স্থিতিশীল। আর প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে সংস্কার, পুনর্গঠন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রথম কাজ।

‎হঠাৎ করে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে সেখানে কর্মরত মানুষের জীবনে। একজন কর্মচারী শুধু নিজের জন্য কাজ করেন না; তার আয়-রোজগারের ওপর নির্ভরশীল থাকে একটি পরিবার, অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পরিবার। একজন কর্মীর চাকরি চলে গেলে তার সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা, দৈনন্দিন ব্যয় এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এক মুহূর্তে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বহু বছরের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও আত্মনিবেদন তখন মূল্যহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎একজন কর্মচারীর চাকরি হারানো মানে শুধু একজন মানুষের ক্ষতি নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে। বাজারে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, স্থানীয় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে যায়, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেন, আবার অনেকে বেকারত্বের হতাশায় মানসিক সংকটে ভোগেন। রাষ্ট্র যদি এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার সামাজিক মূল্য অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়।

‎বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় বা আধা-রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ সাধারণত রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রেখেই জীবন পরিকল্পনা করেন। তারা বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্র তাদের শ্রমের মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করবে। কিন্তু হঠাৎ বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই আস্থাকে নষ্ট করে দেয়। এতে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিও মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হতে শুরু করে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী চিন্তাধারা আমাদের শেখায় যে রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস করার জন্য নয়, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য। কোনো প্রতিষ্ঠান লোকসান দিলে কেন লোকসান হচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। দুর্নীতি থাকলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অদক্ষতা থাকলে দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়া থাকলে আধুনিকায়ন করতে হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া অনেক সময় সমস্যার মূল কারণকে আড়াল করে দেয় মাত্র।

‎ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বহু প্রতিষ্ঠান একসময় সংকটে পড়লেও সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যেসব রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়েছে, তারা সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করেছে; ধ্বংস করেনি। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বছরের পর বছর সময়, বিপুল অর্থ এবং দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ করতে লাগে মাত্র একটি প্রশাসনিক আদেশ। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সহজ পথ বেছে নেওয়া নয়; বরং কঠিন হলেও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা।

‎আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হঠাৎ বন্ধের সংস্কৃতি বিনিয়োগ পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। যখন মানুষ দেখে যে যেকোনো সময় একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তখন তারা নতুন উদ্যোগ নিতে ভয় পায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও অনিশ্চয়তায় ভোগেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা, কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়ন করা আবশ্যক। কর্মীদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।

‎অতএব, কোনো কিছুই হুট করে বন্ধ করা উচিত নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে সুপরিকল্পিত, দায়িত্বশীল এবং জনকল্যাণমুখী। ভুল থাকলে সংশোধন করতে হবে, দুর্নীতি থাকলে নির্মূল করতে হবে, অদক্ষতা থাকলে সংস্কার করতে হবে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে মনে রাখতে হবে—তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং জীবনের নিরাপত্তা। প্রকৃত রাষ্ট্রীয়বাদ ধ্বংসের নয়, গঠন ও পুনর্গঠনের দর্শন। আর সেই দর্শনই একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী, মানবিক এবং স্থিতিশীল করে তোলে।

লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

‎[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।