![]()
ঢাকার তীব্র যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এবার মেট্রোরেলের পর সংযুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ‘মনোরেল’ নেটওয়ার্ক। রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- 🚝 সমীক্ষা চুক্তি: মনোরেলের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য ডিটিসিএ ও বুয়েটের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই।
- ⏱️️ সময় সাশ্রয়: বিমানবন্দর-সাভার ১৭.৬ কিমি রুটের আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার ভোগান্তি কমবে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটে।
- 🔗 মেট্রোরেলের ফিডার সার্ভিস: সরাসরি উত্তরা সেন্টার স্টেশনে এমআরটি লাইন-৬ (MRT Line-6)-এর সাথে যুক্ত হবে।
- 📅 বাস্তবায়ন লক্ষ্য: আগামী ৩ মাসের মধ্যে রুট চূড়ান্ত করা হবে এবং ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেল থাকা সত্ত্বেও কেন মনোরেল প্রযুক্তি?
বিদ্যমান ভারী মেট্রোরেল (Heavy Mass Rapid Transit) চলাচলের জন্য চওড়া সড়ক ও বিশাল পিলারের প্রয়োজন হয়, যা ঢাকার বহু পুরনো ও সরু গলিপথ বা সীমিত চওড়ার আঞ্চলিক মহাসড়কে স্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, মনোরেল চলে একটি মাত্র একক স্টিল বা কনক্রিটের বিমের ওপর দিয়ে। এর পিলার তুলনামূলক অনেক হালকা, সরু এবং কম জায়গা নেয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এবং সংকীর্ণ সড়কগুলোতেও সহজে মনোরেল ট্র্যাক বসানো সম্ভব।
বিমানবন্দর-সাভার রুট ও এমআরটি লাইন-৬ সংযোগ
প্রাথমিক তালিকায় থাকা ৫টি রুটের মধ্যে বিমানবন্দর-উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর হয়ে সাভার-আশুলিয়া ১৭.৬ কিলোমিটার রুটটি অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এই রুটে বাসে যাতায়াত করতে তীব্র যানজটে ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। মনোরেল চালু হলে তা মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটে নেমে আসবে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই মনোরেল রুটটি সরাসরি উত্তরা সেন্টার স্টেশনে মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) সাথে ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে সংযুক্ত থাকবে। ফলে সাভার, আশুলিয়া ও শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা মনোরেলে চেপে দ্রুত উত্তরা পৌঁছে সরাসরি মেট্রোরেলে উঠে মতিঝিল ও পুরান ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।
প্রাথমিক ৫ রুট ও ২০২৯ সালের সময়সীমা
বুয়েট বিশেষজ্ঞ দল আগামী ৩ মাসের মধ্যে সমীক্ষার ভিত্তিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক রুট চূড়ান্ত করবে। মোট ৫টি সম্ভাবনাময় রুটের নাম প্রাথমিক বিবেচনায় রয়েছে:
- বিমানবন্দর – আবদুল্লাহপুর – সাভার-আশুলিয়া রুট
- বসুন্ধরা – পূর্বাচল রুট
- বাড্ডা – ভুলতা রুট
- মোহাম্মদপুর – পোস্তগোলা রুট
- রামপুরা – ডেমরা রুট
সরকারের লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম মনোরেল রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া।
মেট্রোরেল বনাম মনোরেল: প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার তুলনা
| বৈশিষ্ট্য / বিষয় | মেট্রোরেল (MRT) | প্রস্তাবিত মনোরেল |
|---|---|---|
| ট্র্যাক অবকাঠামো | দ্বিমুখী চওড়া ডাবল-রেল ট্র্যাক | একক এলিভেটেড বিম ট্র্যাক |
| সড়কের স্থান প্রয়োজন | চওড়া সড়ক ও বিশাল পিলার আবশ্যক | সরু সড়ক ও কম ব্যাসের হালকা পিলার |
| প্রধান ভূমিকা | প্রধান গণপরিবহন ধমনী (Main Transit Spine) | ফিডার সংযোগকারী সার্ভিস (Feeder Network) |
| সাভার-বিমানবন্দর ভ্রমণ সময় | প্রযোজ্য নয় | ২০ থেকে ২৫ মিনিট (পূর্বে ৩ ঘণ্টা) |
