![]()
আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের যুগান্তকারী আবিষ্কার: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
স্টকহোম, ৬ অক্টোবর:
মস্তিষ্কের স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে চালু বা বন্ধ করার যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। এই আবিষ্কার মস্তিষ্ক গবেষণায় আলোকে কেবল পর্যবেক্ষণের মাধ্যম থেকে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এবারের পুরস্কারজয়ী তিন বিজ্ঞানী হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসারোথ (Karl Deisseroth) এবং জার্মানির পিটার হেগেমান (Peter Hegemann) ও গেওর্গ নাগেল (Georg Nagel)।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জার্মানির বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান এবং গেওর্গ নাগেল সর্বপ্রথম এককোষী শৈবালের মধ্যে ‘চ্যানেলরোডপসিন’ (Channelrhodopsin) নামক একটি বিশেষ আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্রখ্যাত গবেষক কার্ল ডাইসারোথ এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের “আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচ” হিসেবে ব্যবহারের সফল পথ তৈরি করেন।
বিজ্ঞানী মহলের মতে, জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে এই আবিষ্কার এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এর ফলে নিউরোলজিস্ট বা স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের জটিল কার্যাবলি বোঝা এবং বিভিন্ন স্নায়বিক রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসায় ব্যাপক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
