![]()
পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন শুরুর পরপরই আটক আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর
পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগরে উপনির্বাচন শুরু হওয়ার কিছু সময় পরই রাজ্যটির বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা নাগাদ রেজিনগরে দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে আটক করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভোটগ্রহণের শুরুতেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডার পর এই আটকের ঘটনা ঘটে।
- 🚨 ভোটের শুরুতেই আটক: উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আটক।
- 🗳️ ভোট চুরির অভিযোগ: সকালে নিজ গ্রামে পরিবারসহ ভোট দেওয়ার পরই ‘ভোট চুরির’ তোপ দাগেন তিনি।
- ⚠️️ উসকানির অভিযোগ: দলীয় কার্যালয় থেকে ‘হিংসা’ ও ‘উত্তেজনা’ ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ তাঁর কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
- 🗣️ বিজেপির মন্তব্য: বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার জানান, দাঙ্গা ছড়ানোর চক্রান্ত ও পুলিশকে গালাগালি দেওয়ার কারণে তাঁকে পুলিশ ধরেছে।
ভোট দিয়ে কার্যালয়ে গিয়ে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপনির্বাচন শুরু হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শক্তিপুরে নিজের গ্রামের বুথে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি সরাসরি রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন। সেখানে বসেই বিভিন্ন জায়গায় ‘হিংসা’ ও ‘উত্তেজনা’ ছড়াতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই দলীয় দপ্তরে গিয়ে তাঁকে বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও টেনেহিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা
পুলিশের নির্দেশে সাড়া না দিয়ে হুমায়ুন কবীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সাথে চরম বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপরই পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে রেজিনগর থানায় নিয়ে যায়। গাড়িতে ওঠার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে নাকি আটক করা হচ্ছে, আমি এর কিছুই বুঝতে পারছি না।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও দাঙ্গা উসকানির পাল্টা অভিযোগ
হুমায়ুন কবীরকে আটকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার বলেন, হুমায়ুন কবীর গত কয়েকদিন ধরে ভোটে সহিংসতার উসকানি দিচ্ছিলেন এবং প্রকাশ্যে ‘ভোটের দিন ১০টি লাশ পড়বে’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চেয়েছিলেন এবং পুলিশকে গালিগালাজ করার কারণেই প্রশাসন তাঁকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে।
রেজিনগর উপনির্বাচন ও বিধায়ক আটকের সারসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| ব্যক্তির পরিচয় | হুমায়ুন কবীর (বিধায়ক, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ও বাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা) |
| ঘটনার স্থান ও সময় | রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ | মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ (সকাল ৮:০০) |
| অভিযোগের বিবরণ | ভোটের দিন উসকানি প্রদান, পুলিশের কাজে বাধা ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা |
| আটককারী সংস্থা | রেজিনগর থানা পুলিশ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে) |
