![]()
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থাপিত মহান মুক্তিযুদ্ধের অমর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে অবমাননাকরভাবে জুতার মালা ঝোলানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা পরা ছবি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে[cite: 1]। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন রাজনৈতিক নেতা ও বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে[cite: 1]।
- 📍 ঘটনাস্থল: ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর[cite: 1]।
- 😡 অবমাননা: সাদা রঙ করা ভাস্কর্যের গলায় রাতের আঁধারে দুষ্কৃতকারীদের জুতার মালা ঝোলানো[cite: 1]।
- 🏛️ প্রশাসনের পদক্ষেপ: জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের জরুরি বৈঠক ও দোষীদের আইনি আওতায় আনার নির্দেশ[cite: 1]।
- 📹 পরিবারের দাবি: বীরশ্রেষ্ঠের ভাতিজা হাফিজুর রহমান কর্তৃক চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি[cite: 1]।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন
ঝিনাইদহ সিপিবি-র সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে ভাস্কর্যের গলায় জুতার মালা পরা ছবি দেখেন এবং বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রত্যক্ষ করেন[cite: 1]। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন[cite: 1]। স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি ভাস্কর্যটিতে সাদা রং করায় তা দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল[cite: 1]। তবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান দুপুরে চত্বরে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা মহল জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলে[cite: 1]।
বারবার ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অপসারণের চক্রান্তের অভিযোগ
বাসদ ঝিনাইদহের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই ভাস্কর্যটি অপসারণের চক্রান্ত করছে এবং তারাই রাতের আঁধারে এই হীন কাজ ঘটিয়েছে[cite: 1]। ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ উদ্বোধনের পর থেকে ভাস্কর্যটি বহুবার আঘাতের মুখে পড়েছে[cite: 1]। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দফায় এবং পরবর্তীতে জুলাই মাসেও একটি চক্র এটি ভাঙচুর শুরু করলে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়েছিল[cite: 1]।
সিসিটিভি স্থাপনের দাবি ও বিচার বাস্তবায়নের আশ্বাস
ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক আখ্যা দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান চত্বরটিতে স্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন[cite: 1]। তিনি বলেন, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষ অপকর্ম চালিয়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করতে পারে[cite: 1]। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতা ও বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সাথে বৈঠক করা হয়েছে এবং পুলিশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে[cite: 1]।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও সাম্প্রতিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় / বিবরণ | তথ্যসমূহ |
|---|---|
| চত্বর উদ্বোধন | ২৬ মার্চ, ২০১৯ (জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার মেয়র কর্তৃক)[cite: 1] |
| স্থাপত্য সংমিশ্রণ | বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য[cite: 1] |
| সাম্প্রতিক অবমাননা | গলায় জুতার মালা ঝোলানো (৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশ)[cite: 1] |
| প্রশাসনিক কর্মকর্তা | নোমান হোসেন (জেলা প্রশাসক, ঝিনাইদহ)[cite: 1] |
