![]()
বিশেষ প্রতিবেদন: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো হঠাৎ তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রক্তে শর্করার এই অস্বাভাবিক পতনকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসিমিয়া। বিশেষ করে নিয়মিত ইনসুলিন বা ওষুধ সেবনের পর সঠিক সময়ে খাবার না খেলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ ব্যাহত হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
রক্তে শর্করা কমে গেলে শরীরে প্রধানত যে উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়:
-
বুক ধড়ফড় করা ও দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
-
শরীর কাঁপা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
-
তীব্র দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা
-
ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
-
পরিস্থিতি জটিল হলে মানসিক বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা খিঁচুনি
রোগী সচেতন থাকলে করণীয়
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. অন্বিত ভট্টাচার্য জানান, রোগী যদি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন এবং খাবার গিলতে পারেন, তবে অবিলম্বে শর্করা বাড়ায় এমন খাবার দিতে হবে।
-
যা খাওয়াবেন: চিনি মেশানো পানি, গ্লুকোজ বা মিষ্টিজাতীয় খাবার।
-
যা এড়িয়ে চলবেন: চকোলেট, আইসক্রিম বা বিস্কুট দেওয়া যাবে না। কারণ এসব খাবারে চিনির পাশাপাশি চর্বি (ফ্যাট) থাকে, যা রক্তে চিনি শোষণের গতি ধীর করে দেয়।
অজ্ঞান বা খিঁচুনি হলে যে ভুলটি করবেন না
রোগী যদি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন বা খিঁচুনি শুরু হয়, তবে কোনো অবস্থাতেই মুখে পানি, চিনি বা অন্য কোনো খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। মুখ দিয়ে কিছু খাওয়াতে গেলে তা শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসরোধ হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জরুরি করণীয়: এ অবস্থায় রোগীকে নিরাপদে এক কাত করে শুইয়ে দিতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা জরুরি চিকিৎসা সেবায় যোগাযোগ করতে হবে।
সুস্থ মনে হলেও যা মনে রাখবেন
প্রাথমিক উপশমের পর শর্করা কিছুটা স্বাভাবিক হলে রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং কিছু সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। কারণ রক্তে শর্করার মাত্রা আবারও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
দ্রুত শর্করা দেওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেও যদি উপসর্গের উন্নতি না হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ইনসুলিন বা ওষুধ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
