![]()
কাজু, আখরোট কিংবা কাঠবাদাম—স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট আকারের এই বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ফলে পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়াকে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে প্রতিদিন কতটা বাদাম খাওয়া উচিত, কীভাবে খাওয়া বেশি ভালো—এ নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে।
প্রতিদিন কতটা বাদাম খাবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণভাবে প্রতিদিন ‘এক মুঠো’ বা প্রায় ২০ থেকে ২৩টি কাঠবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও এটি সবার জন্য নির্দিষ্ট নয়।
কারণ, প্রতিটি মানুষের শরীরের প্রয়োজন, বয়স, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম এবং মোট ক্যালোরির চাহিদা এক নয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক বাদাম খেতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তুলনামূলক কম পরিমাণে খেলেও বাদামের পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বাদামের পরিমাণের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কাঠবাদামে থাকা ফ্যাট মূলত ‘ভালো ফ্যাট’ বা স্বাস্থ্যকর হলেও এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশ বেশি থাকে। অতিরিক্ত খেলে তা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
শীতকালে বাদামের উপকারিতা
শীতের সময়ে শরীরের সুরক্ষায় কাঠবাদাম বিশেষভাবে উপকারী ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ভিটামিন ই শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া বাদামের মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ফাইবার, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত বাদাম খেলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমতে সাহায্য করে।
কাঁচা, ভেজানো নাকি ভাজা—কোনটি বেশি ভালো?
সকালে উঠে ভেজানো কাঠবাদামের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার অভ্যাস বহুদিনের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদাম ভিজিয়ে খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
কাঁচা কিংবা অতিরিক্ত তেল, লবণ বা চিনি ছাড়া ড্রাই-রোস্ট (শুকনো ভাজা) করা বাদামও সমান স্বাস্থ্যকর। নিজের পছন্দ ও সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো উপায়েই এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন
স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও বাদাম সবার জন্য একরকম নিরাপদ নয়।
-
অ্যালার্জি: যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের কাঠবাদাম সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।
-
ক্যালোরি সচেতনতা: যারা প্রতিদিনের ক্যালোরি মেপে খাবার গ্রহণ করেন, তাদের অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অতিরিক্ত যেকোনো খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কাঠবাদামের পূর্ণ সুবিধা পেতে তা সঠিক পরিমাণে এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
