![]()
প্রবাসী ভোটিং পদ্ধতিতে বাংলাদেশের মডেল বিশ্বে অনন্য। এটি সন্তোষজনক ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজীব সুব্বা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পোস্টাল ভোটিং নিয়ে নির্বাচন ভবনে দুদিনের অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যক্রম শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটাধিকারের বিষয়ে বলতে গেলে, আইডিইএ (IDEA) সার্ভিসেসের ওসিভি ধারণা দেখে আমরা সত্যিই অনুপ্রাণিত।
বাংলাদেশ কমিশনের এই সফল উদ্যোগটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, যা বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং সমগ্র বিশ্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ। আমি শুনছি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখছে, যাতে তারা নিজেদের দেশে এ প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও এগিয়ে নিতে পারে, সে সম্পর্কে জানতে পারে।
তাই আমরা সামনের দিকে আরও অনেক কিছুর প্রত্যাশা করছি। এটি আলোচনার শেষ নয়, বরং কেবল আলোচনার শুরু।
ভবিষ্যতে আমরা একই পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাব, একে অপরের কাছ থেকে শিখব।
আপনারা কি আপনাদের জাতীয় নির্বাচনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই! তবে আমরা এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছি যে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট ও পটভূমি অনুযায়ী কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, রেমিট্যান্স এবং দেশে ফিরে আসা কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের যে অবদান, আমরা সবাইকে যুক্ত করতে চাই এবং যতটা সম্ভব খরচ বাঁচাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ওসিভির বাংলাদেশের এই মডেলটি খুবই গ্রহণযোগ্য বা সন্তোষজনক। তবে এ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেবল আমরা একা নই, সরকারকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে তা সত্ত্বেও, এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি, যা আমরা গ্রহণ করতে পারি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের প্রচলন করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এ ক্ষেত্রে দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের ভেতরে যারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন, সরকারি চাকরিজীবী ও কারাবন্দিদের এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দেশের বাইরে বসবাসরত প্রবাসীরাও এ সুযোগ পাচ্ছেন।
এজন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে ইসি। এতে নিবন্ধন করলেই ফিরতি খামসহ ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভোটাররা ভোট দিয়ে ফিরতি খাম নিকটস্থ পোস্টবক্সে জমা দিলেই তা পৌঁছে যায় সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে।
নেপালের নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের একটি দল পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে দুদিন ধরে অভিজ্ঞতা নেয়।
