![]()
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ বছর ধরে অনুপস্থিত এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০১৪ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে ওই শিক্ষক নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক। তবে সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের অভ্যাগতপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
২০০২ সালে নিয়োগ, চাকরি ছাড়েন ২০১৪ সালে
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভ্যাগতপাড়া গ্রামের মৃত যতিনন্দ্রনাথ প্রামাণিকের ছেলে নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টিতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর থেকে দীর্ঘ ১২ বছর তাঁকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। এ সময়ে হাজিরা খাতায়ও তাঁর কোনো স্বাক্ষর নেই বলে জানা গেছে।
২০২২ সালে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে এরপরও নীরেন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে যোগ দেননি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গত ৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে নীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক নিজেকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইয়ানুছ আলীর বিরুদ্ধে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ আনেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়ানুছ আলী। তাঁর ভাষ্য, নীরেন্দ্রনাথকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি; বরং তিনি ১২ বছর আগেই স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন গোলাম রহমান।
ইয়ানুছ আলী আরও বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে না আসায় নীরেন্দ্রনাথ বর্তমান প্রধান শিক্ষক কে, তা-ও জানেন না। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তদন্ত কমিটি গঠন
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার ড. মুহাম্মদ আব্দুল মুমীত।
তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
