![]()
প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হয়ে ওঠা সত্ত্বেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (SIPRI) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সামরিক খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করা দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট, থাড এবং অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে সজ্জিত হলেও বিস্তীর্ণ সীমান্ত ও তিন দিক থেকে আসা হুমকির মুখে সুরক্ষাবলয় ধরে রাখতে পারছে না। সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে।
- 💰 বিপুল সামরিক বাজেট: গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে ৮,৩০০ কোটি ডলার ব্যয়, যা বিশ্বে প্রথম দশটি দেশের অন্তর্ভুক্ত।
- 🧭 তিন দিকের হুমকি: পূর্বে ইরান, দক্ষিণে ইয়েমেনের হুথি এবং উত্তরের ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বিত ড্রোন ও মিসাইল নেটওয়ার্ক।
- 🚀 হুথিদের নতুন কৌশল: ইউক্রেন যুদ্ধের আদলে ব্যালেস্টিক মিসাইল, গতিপথ পরিবর্তনশীল ‘হাটেম-২/প্যালেস্টাইন-২’ ও ড্রোনের সমান্তরাল হামলা।
- 🛡️ মার্কিন অস্ত্রের সংকট: ওয়াশিংটনের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর অস্ত্রের ঘাটতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সংঘাত এড়ানোর দ্বিধা।
তিন দিক থেকে সমন্বিত আক্রমণের মুখোমুখি বিশাল ভৌগোলিক এলাকা
সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হলো দেশটির সুবিশাল আয়তন এবং একই সাথে একাধিক দিক থেকে আসা আকাশপথের হুমকি। পূর্ব সীমান্ত থেকে ইরান, দক্ষিণের পাহাড়ি ইয়েমেনি অঞ্চল থেকে হুথি বাহিনী এবং উত্তরে ইরাকের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো একযোগে হামলা পরিচালনা করে। সম্প্রতি ইরান একযোগে প্রায় ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছিল, যার সাথে ইরাক ও ইয়েমেন থেকে আসা ড্রোন যুক্ত হয়ে সৌদি আরবের প্যাট্রিয়ট ও থাড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কার্যকারিতাকে মারাত্মক চাপের মুখে ফেলে দেয়।
কৌশল বদলেছে হুথিরা: উড্ডয়নকালে গতিপথ পরিবর্তনের মিসাইল
সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাকে পরাস্ত করতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এখন একই সাথে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার ড্রোন ও উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটি ঘেঁষে উড়ে আসায় সাধারণ রাডারে ধরা কঠিন হয়। তদুপরি, ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি ‘হাটেম-২’ এবং ‘প্যালেস্টাইন-২’ এর মতো নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নকালে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে, যা ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার সন্ধান ও ওয়াশিংটনের অনীহা
ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান থেকে কয়েক হাজার সেনা আনা এবং মিশরের সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জোট গড়ার চেষ্টা করছে রিয়াদ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে মার্কিন অস্ত্রাগারেও কৌশলগত মিসাইলের সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক অভিযানে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকায় রিয়াদকে একাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে হচ্ছে।
সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির তুলনা
| বিষয় / খাত | সামরিক তথ্য ও বিশ্লেষণ |
|---|---|
| বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট (SIPRI) | ৮,৩০০ কোটি মার্কিন ডলার (বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি) |
| মজুতকৃত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা | যুক্তরাষ্ট্রের Patriot, THAAD এবং মার্কিন-ইউরোপীয় তৈরি যুদ্ধবিমান বহর |
| আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের অস্ত্র | হাটেম-২, প্যালেস্টাইন-২, দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল |
| সাম্প্রতিক প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্যবস্তু | কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (রিয়াদ), আরামকো তেল শোধনাগার ও পাইপলাইন |
