![]()
বিশেষ প্রতিবেদক:
“বাবা” — মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা ও বিশালতা অসীম। সন্তানের জীবনের প্রথম হিরো, তপ্ত রোদে শীতল ছায়া দেওয়া এক পরম নির্ভরযোগ্য বটবৃক্ষ। আজ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার, বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য উৎসর্গীকৃত বিশেষ একটি দিন।
বাবা দিবসের ইতিহাস:
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এই দিনটি উদযাপনের সূচনা হয়। ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবার আমেরিকার ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালন করা হয়। সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী তাঁর একক প্রচেষ্টায় এই দিবসের সূচনা করেন। মা মারা যাওয়ার পর সনোরা ও তাঁর ৫ ভাইকে তাঁর বাবা একাই অত্যন্ত কষ্ট করে বড় করেছিলেন। বাবার সেই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও সংগ্রামকে সম্মান জানাতেই তিনি এই বিশেষ দিনটির জন্য লড়াই করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাবা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
যেভাবে উদযাপিত হচ্ছে এই দিনটি:
বাবাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না সত্যি, তবে এই দিনটি আসে ব্যস্ত জীবনের মাঝে বাবাকে একটু বিশেষভাবে “ধন্যবাদ” জানানোর সুযোগ করে দিতে। আজ সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে বাবাদের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি এবং আবেগময় বার্তায়।
বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সন্তানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাবাকে পছন্দের কোনো উপহার দিচ্ছে—কেউবা ফুল, কার্ড, বই কিংবা বাবার প্রিয় কোনো পোশাক কিনে দিচ্ছেন। আর যারা কর্মব্যস্ততার কারণে দূরে আছেন, তারা ফোনের ওপাশ থেকেই বাবার কণ্ঠ শুনে খুঁজে নিচ্ছেন পরম শান্তি।
বাবার ত্যাগ ও সন্তানের দায়িত্ব:
একটি পরিবারকে আগলে রাখতে একজন বাবা নিজের জীবনের সমস্ত আরাম-আয়েশ, শখ-আহ্লাদ নীরবে বিসর্জন দেন। সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বর্তমানের যান্ত্রিক যুগে অনেক সময়ই প্রবীণ বয়সে এসে বাবাদের একাকীত্বে ভুগতে হয়।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে উপহার দেওয়া বা শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই বাবা দিবসের সার্থকতা সীমাবদ্ধ নয়। বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, বিশেষ করে বাবাদের বার্ধক্যে তাঁদের পাশে থাকা, তাঁদের মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেওয়া এবং তাঁদের অবদানের মূল্যায়ন করাই হোক এই দিবসের মূল অঙ্গীকার।
পৃথিবীর সব বাবার জীবন হোক সুন্দর, সুস্থ ও দীর্ঘায়ু। সব বাবাদের জানাই—শুভ বাবা দিবস!
