![]()
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসা থেকে ফারজানা ইসলাম (২৫) নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কের একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত ফারজানা ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মুসুল্লিবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম কুমিল্লার কচুয়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তালুকদারবাড়ি এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।
শয়নকক্ষ থেকে চিরকুট উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, ফারজানার শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে স্বামীর আচরণ ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। চিরকুটে আত্মহত্যার কথাও লেখা ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে চিরকুটের বক্তব্য এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
ফারজানার বড় ভাই আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ২০২৩ সালে পারিবারিক সম্মতিতে নাজমুলের সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নাজমুল কর্মহীন থাকায় তাঁদের পরিবারই দম্পতির সংসারের খরচ বহন করত।
প্রায় দেড় বছর আগে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেন। এরপর তাঁরা মুন্সিগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। আরিফুলের দাবি, ওই সময় থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর বোনকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে বর্তমান ঠিকানায় চলে আসেন। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাঁরা সেখানে পৌঁছান।
মৃত্যুর কারণ তদন্ত করছে পুলিশ
ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, শয়নকক্ষ থেকে একটি চিরকুট জব্দ করা হয়েছে। নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
