Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ডায়াবেটিসে ৬৮.৮% রোগীর ফ্যাটি লিভার

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। অর্থাৎ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুজনের লিভারে চর্বি জমেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শরীরের ওজন স্বাভাবিক কিংবা কম হলেও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি থেকে যায়।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগ আয়োজিত ‘ডিএমসি লিভার ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জান্নাতুল হাবিবা নীলা জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের প্রায় ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। এ ছাড়া ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রতি চারজনের একজনের ওজন স্বাভাবিক অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে কম।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকলেই লিভার সুস্থ—এমন ধারণা ঠিক নয়। স্বাভাবিক বা কম ওজনের ব্যক্তিদেরও লিভারে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই শুধু ওজনের ওপর নির্ভর করে লিভারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

এ কারণে লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু একটি রোগের চিকিৎসা করলেই যথেষ্ট নয়। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি লিভারের অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

জীবনযাপনের যেসব অভ্যাস বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

চিকিৎসকদের মতে, দেশে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিয়মিত ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড খাওয়া, ব্যায়াম ও খেলাধুলা না করা, রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার মতো অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব অভ্যাসের সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ ছাড়া হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের লিভারের রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, লিভারের রোগের একটি বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগ সম্পর্কে জানতে দেরি হতে পারে এবং এর মধ্যে লিভারের ক্ষতি বাড়তে পারে। এ কারণে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কী করবেন?

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার খাওয়া, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার কমানো এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি লিভারের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লিভারের পরীক্ষা করানো উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে লিভারের রোগের বিস্তার মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।