![]()
গবেষণার মাঠ উদ্ধারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে থাকা অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় খামারের ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে গিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। মেলার অবশিষ্ট সব কাঠামো ভেঙে ফেলার পর ট্রাক্টর দিয়ে পুরো মাঠ চাষ করেন শিক্ষার্থীরা।
- 🚜 মাঠ চাষ ও স্থাপনা ভাঙচুর: সোমবার সকালে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে গবেষণার মাঠ চাষ করেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা।
- 🏛️ সচিবালয় স্থাপনের বিরোধিতায়: ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
- ⏳ আয়োজকদের কালক্ষেপণ: মেলা বন্ধের পর এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও কালক্ষেপণ করায় ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা।
- 👨🏫 প্রক্টরের উপস্থিতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী।
সবুজায়ন রক্ষা ও সচিবালয় স্থাপনের বিরোধিতায় শিক্ষার্থীরা
পুরাতন বাণিজ্য মেলার এই মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের স্পষ্ট দাবি, এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বা সম্পদের অংশ নয়, বরং রাজধানীর এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সবুজ এলাকা ও ফুসফুস। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান জানান, গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে এখানকার জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সবুজায়ন বজায় রাখাই এই অঞ্চলকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
মেলার আয়োজকদের গাফিলতি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি সিদ্ধান্তে মেলা স্থগিত হওয়ার পর আয়োজক কমিটি এক দিনের মধ্যে সমস্ত স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তা না করে উল্টো বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে কালক্ষেপণ ও সমঝোতার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর জিনিসপত্র নিয়ে চলে যেতে চাইলেও কমিটি বাধা দিয়েছিল বলে জানান স্টল কর্মচারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তাদের শান্ত করার চেষ্টা চালান।
শেকৃবি মাঠ উদ্ধার আন্দোলন তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| আন্দোলনের স্থান ও সময় | পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ, শেকৃবি; সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল |
| শিক্ষার্থীদের মূল দাবি | গবেষণার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া এবং সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল |
| আজকের প্রতিবাদ কর্মসূচি | অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও কেন্দ্রীয় খামারের ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ চাষ |
| বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন | প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলীর নেতৃত্বে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা |
