![]()
নিউজ প্রোভাইডার
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীণ সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানার অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী মোছাঃ রাশিদা সুলতানা। এই সুযোগে চিকিৎসার্থে সংরক্ষিত নগদ ৩৮ হাজার ৭০০ টাকা, মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং কষ্টের উপার্জনে গড়া এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল লুটে নিয়েছে অপরাধী চক্র। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে তদন্ত জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার পেছনে রক্তের সন্ধান দেওয়া ব্যক্তিদের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
হাসপাতালের দিন থেকেই ‘সহযোগিতার’ নাটক
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর) চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা। হাসপাতালে ভর্তির দিনই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর এক সহযোগীকে নিয়ে রানার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিতে থাকেন।
গত ২০ জুন সকালে রানার জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের প্রয়োজন হলে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে তা পাওয়া যায়নি। এ সময় ওই কথিত সাংবাদিক ও তার সহযোগী রাশিদা সুলতানাকে দ্রুত শ্যামলীর রূপায়ণ টাওয়ারের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমে প্রসেসিং ফি মাত্র ৫০০ টাকা বলা হলেও সেখানে যাওয়ার পর রক্ত বাবদ ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষিতে ২ হাজার টাকা চাওয়া হলে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় রাশিদা সুলতানা রক্ত না নিয়েই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ওভারব্রিজে পাতানো ফাঁদ ও সর্বস্ব লুট
রূপায়ণ টাওয়ার থেকে ফিরে আসার পথে শ্যামলী শিশু মেলা সংলগ্ন ওভারব্রিজ এলাকায় দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি রাশিদা সুলতানার পথ রোধ করে এবং কথার ছলে তাঁর স্বামীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়ার টোপ দেয়। সরল বিশ্বাসে তাদের পেছনে ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশে গেলে কৌশলে তাঁকে অচেতন করে ফেলা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে এলে রাশিদা সুলতানা আবিষ্কার করেন তাঁর নগদ টাকা, মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ কানের সাড়ে চার আনা ওজনের স্বর্ণের দুল জোড়া গায়েব হয়ে গেছে। পরে হাসপাতালে ফিরে ওপারেশন থিয়েটারের সামনে অপেক্ষায় থাকা স্বামীকে বিষয়টি জানালে মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তদন্তে নতুন মোড় ও রহস্যময় অন্তর্ধান
ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নেমেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে স্থিরচিত্রে দেখা যাওয়া এক ব্যক্তির পরিচয় জানতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ।
এদিকে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে রক্ত আনতে পাঠানো সেই কথিত সাংবাদিক ও তার সহযোগীর ভূমিকা নিয়ে। ঘটনার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে ১২ দিন পর একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঢাকার এক পরিচিত ব্যক্তি নাকি তাঁদের রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন! তবে সেই রহস্যময় ব্যক্তির নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কে বা কারা যোগাযোগ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর হাসপাতাল ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এমন অসহায় মানুষকে টার্গেট করা অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে।
